জলবায়ু সংকটে উত্তর-পূর্ব ভারত: সমাধান ও কর্মপরিকল্পনার আহ্বান
শনিবার নতুন দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়াতে ‘উত্তর-পূর্ব ভারতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সেমিনারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু-সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
সেমিনারটি যৌথভাবে সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্টস ফোরাম এবং নর্থইস্ট মিডিয়া ফোরাম দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল।সেমিনার পরিচালনা করেন জার্নালিস্টস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সি কে নায়ক এবং মিডিয়া ফোরামের সভাপতি সঞ্জীব বড়ুয়া।
উত্তর-পূর্ব ভারত পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশের অন্যতম সংবেদনশীল পরিবেশগত অঞ্চল হিসাবে বিবেচিত। এই অঞ্চলটি জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে ঘন ঘন বন্যা, ভূমিধস, ভূমিকম্প এবং খরা দেখা যায়।
সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গুরু গোবিন্দ সিং ইন্দ্রপ্রস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট এর অধ্যাপক ড. কিরণময় শর্মা উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তার বাইরে জলবায়ু সম্পর্কিত তার বেশ কয়েকটি গবেষণার ওপর আলোকপাত করেন, যা জলবায়ু সম্পর্কিত ঘটনা এবং সম্প্রদায়ের উপর এর প্রতিক্রিয়ার একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে।
পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য ভূ-স্থানিক প্রযুক্তি প্রয়োগে বিশেষজ্ঞ ড. শর্মা সেমিনারে একটি উপস্থাপনা করেন, যেখানে তিনি পরিবেশগত প্রভাব অধ্যয়নে সহায়ক বিভিন্ন রিমোট সেন্সিং সরঞ্জাম নিয়ে আলোচনা করেন।
উত্তর-পূর্বের জল-সংকট পূর্ণ অঞ্চলে রিমোট সেন্সিং অ্যাকুইফার (ভূগর্ভস্থ জল স্তর) সনাক্ত করতে পারে কিনা এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি অ্যাকুইফার সনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। মেঘালয়ে, বনভূমির মধ্যে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অ্যাকুইফার চিহ্নিত করা হয়েছে।”
ক্লাইমেট ল্যান্ড অ্যাম্বিশন অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্স এর বন ও জলবায়ু নীতির সৌপর্ণ লাহিড়ী তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক এবং কীভাবে সমাজ সামগ্রিকভাবে এর প্রভাব মোকাবিলা করতে পারে তা তুলে ধরেন। লাহিড়ীর মতে, জলবায়ু পরিবর্তন হলো সমস্ত নৃতাত্ত্বিক (মানুষের দ্বারা সৃষ্ট) কার্যকলাপের একটি প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া। তিনি পরামর্শ দেন যে সমস্ত উত্তর-পূর্ব রাজ্যের নিজস্ব জলবায়ু কর্মনীতি থাকা উচিত।
লাহিড়ী বলেন, “জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা সাধারণত পরামর্শদাতাদের দ্বারা প্রস্তুত করা হয়, সম্প্রদায়ের মানুষের দ্বারা নয়। একটি জলবায়ু কর্মনীতি একটি বটম-আপ অ্যাপ্রোচ হওয়া উচিত, যেখানে সম্প্রদায়, তাদের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা জড়িত থাকবে, যাতে আমরা একটি সঠিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে পারি।”



