মালয়েশিয়ায় কর্মশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ১০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দ
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (কেসুমা) দেশের কর্মশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ১০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দের নতুন জাতীয় উদ্যোগ “প্রগ্রেসিভ অ্যাকসেলারেশন ফর ক্যাপাবিলিটি অ্যান্ড এমপ্লয়াবিলিটি (পেইস)” চালু করতে যাচ্ছে।১৭ মে রবিবার, মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান এক বিবৃতিতে বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন করপোরেশন (এইচআরডি কর্প) এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপের অংশ। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি জানান, প্রতিভা বিকাশ, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, কর্মশক্তির রূপান্তর এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে পেইস কর্মসূচি ব্যাপকভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রামানান বলেন, পেইস শুধু একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; এটি ভবিষ্যতের জন্য আরও সহনশীল, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর নতুন অর্থনীতির চাহিদা মোকাবিলায় সক্ষম কর্মশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের একটি বড় বিনিয়োগ।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর পূর্ণ সমর্থনে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা ‘মালয়েশিয়া মাদানি’ ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর লক্ষ্য হলো মানবসম্পদ উন্নয়নকে শক্তিশালী করা এবং মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নত করা।
পেইসের আওতায় ১০টি কৌশলগত কর্মসূচি চালু করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (টিভিইটি), তরুণদের প্রতিভা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতির রূপান্তর, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক উন্নয়ন, গিগ কর্মীদের কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটির উন্নয়ন।
রামানান বলেন, পেইসের অধীনে নেওয়া প্রতিটি উদ্যোগ যেন জনগণ ও দেশের অর্থনীতিতে স্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য প্রভাব ফেলে, সেজন্য লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতের পরিবর্তিত কর্মসংস্থানের পরিবেশ মোকাবিলায় আরও উৎপাদনশীল, উদ্ভাবনী এবং প্রস্তুত কর্মশক্তি তৈরি করাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
রামানান আরও বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নই একটি প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই উচ্চ আয়ের দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, মাদানি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে দেশের উন্নয়নের যাত্রায় কোনো জনগোষ্ঠী পিছিয়ে না থাকে। পেইসের মাধ্যমে আমরা মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, আয় শক্তিশালীকরণ এবং তাদের পরিবারগুলোর জন্য আরও ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।
মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশ্বাস, পেইস কর্মসূচি জাতীয় কর্মশক্তির রূপান্তরে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে এবং প্রতিভা ও দক্ষতার আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে মালয়েশিয়ার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।



