ব্রিটিশ রাজনীতিতে অস্থিরতা: চাপে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারে
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার নিজ দলের ভেতর থেকেই কঠোর সমালোচনা ও পদত্যাগের দাবির মুখোমুখি হয়েছেন। সাম্প্রতিক স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর দলটির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে। তিনি সরাসরি বলেন যে, স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর তার আর আস্থা নেই এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি মনে করেন না যে স্টারমার আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। যদিও স্ট্রিটিং নিজে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামার ঘোষণা দেননি, তবে তার সমর্থকেরা দাবি করেছেন যে দলীয় নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করার মতো যথেষ্ট সমর্থন তার রয়েছে।
এর আগে আরও কয়েকজন জুনিয়র মন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্য পদত্যাগ করেন। এদের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জুবির আহমেদসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রায় নব্বইজন লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ অথবা সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে দলের একটি বড় অংশ এখনও স্টারমারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। প্রায় দেড় শতাধিক এমপি মনে করেন, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা দল ও দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন বলেন, পুরো মন্ত্রিসভা এখনো প্রধানমন্ত্রীর পাশে রয়েছে এবং দলের সদস্যদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা উচিত।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং ওয়েস স্ট্রিটিংকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নামও আলোচনায় এসেছে। তবে নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নিতে হলে তাকে প্রথমে সংসদ সদস্য হতে হবে।
এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে সাম্প্রতিক নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ব্যর্থতা। ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে দলটি প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারিয়েছে। ওয়েলসে ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি স্কটল্যান্ডেও দলটি ইতিহাসের অন্যতম খারাপ ফল করেছে। এসব ফলাফল স্টারমারের নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এদিকে রাজা সাম্প্রতিক কিংস স্পিচে সরকারের আগামী দিনের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এতে ডিজিটাল পরিচয়পত্র চালু, ব্রিটিশ স্টিল জাতীয়করণ এবং স্বাস্থ্য ও পুলিশ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই পরিকল্পনাগুলোর চেয়ে বর্তমানে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকটই ব্রিটিশ রাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন রাজনীতিতে এখন অনিশ্চয়তা ও নেতৃত্ব সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার আপাতত দায়িত্বে বহাল থাকলেও তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।



