প্রবাস
মিশরে সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় বাংলাদেশি ঐতিহ্যের জয়গান
মিশরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়–এর মেডিসিন অনুষদ আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক দিবসে গর্বের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে ভারত, লেবানন, সৌদি আরব, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ সুদানসহ বিশ্বের ১৩টি দেশের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কৃষ্টিকে তুলে ধরেন।প্রতি বছরের মতো এবারও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনুষ্ঠানটি ছিল বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম। চলমান পরীক্ষার ব্যস্ততার মধ্যেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও উদ্যমের সঙ্গে নিজেদের সাংস্কৃতিক স্টল প্রস্তুত ও উপস্থাপন করেন, যা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বাংলা সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, পর্যটন সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার উপস্থাপন করা হয়। লাল-সবুজের পতাকা, নকশিকাঁথা, গ্রামীণ ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপকরণ এবং দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আলোকচিত্রে সাজানো স্টলটি পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
পাশাপাশি বাংলা গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও অতিথিরা বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রাণবন্ত উপস্থাপনা উপভোগ করেন এবং স্টল ঘুরে দেখেন আগ্রহভরে।
বাংলাদেশি স্টলটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন। দর্শনার্থীদের জন্য পরিবেশন করা হয় জনপ্রিয় বাংলাদেশি নানা মুখরোচক খাবার। বিশেষভাবে সবার নজর কেড়ে নেয় লাইভ ফুচকা ও ঝালমুড়ির স্টেশন। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও মিষ্টান্নও পরিবেশন করা হয়। আপ্যায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশের আতিথেয়তার অনন্য পরিচয় তুলে ধরেন।
স্টলে শাড়ি, পাঞ্জাবিসহ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাকও প্রদর্শন করা হয়। বিদেশি শিক্ষার্থীদের এসব পোশাক পরিধান করে দেখার সুযোগ দিলে তারা উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন, যা পুরো অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দমুখর করে তোলে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগ ও পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন মেডিসিন অনুষদের ভাইস ডিন ডা. রানিয়া সালাহ এবং আইএসও প্রধান ডা. নায়েরা সামি। তারা বাংলাদেশি দলের সাংস্কৃতিক উপস্থাপনাকে অত্যন্ত সফল, সৃজনশীল ও প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা জানান, একদিকে পরীক্ষা ও একাডেমিক ব্যস্ততা, অন্যদিকে বৃহৎ পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন—দুই দিক সামলেও সফলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তাদের মতে, এ অংশগ্রহণ শুধু বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেনি; বরং প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঐক্য, দলগত প্রচেষ্টা ও দেশপ্রেমেরও উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও আন্তরিক আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছরই এ সাংস্কৃতিক দিবসের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।



