পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার (১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমানসহ ছয় সদস্যবিশিষ্ট নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। আজ থেকেই এ বোর্ড কার্যকর হচ্ছে।
তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে আলোচনা করে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আশা করি, শ্রমিকরা এখন রাজপথের আন্দোলন ছেড়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে কাজে যোগ দেবেন। তিনি আরও বলেন, গত তিনদিন ধরে আমরা শ্রমিকদের এবং মালিকদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। এদিকে শুক্রবার-শনিবার বন্ধ থাকায় আমরা তাদেরকে সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছি যে, রোববারেই আমার মজুরি বোর্ড ঘোষণা করবো। তারপরেও দেখা যাচ্ছে আমাদের শ্রমিক ভাইদেরকে দিয়ে একটা মহল সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব করছে।
শ্রমমন্ত্রী আরও বলেন, যেখান আমরা সংবাদ সম্মেলনে বলেছি, শ্রমিকদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসেছি, মালিকদের সঙ্গে বসেছি। সবার সামনেই আমরা বলেছি রোববারে মজুরি বোর্ড ঘোষণা করা হবে। কিন্তু আজকে সকাল থেকে আবারও রাস্তায় শ্রমিকদের নামিয়ে দেয়া হলো। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চায়, এটি জনগণ ও শ্রমিকরা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রমিক সেজে আন্দোলনে গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ছবিও এসেছে। শ্রমিকদের সামনে রেখে ভেতরে আরেকটি গ্রুপ তাদের ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছে। জনগণ সজাগ থাকলে এ উদ্দেশ্য সফল হবে না।
এর আগে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করার বিষয়টি জানিয়েছিলেন শ্রমমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।



