বাজার করার অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট শপিং ট্রলি। ল্যাঙ্কাশায়ারের অ্যাশটন-অন-রিবল এলাকার একটি মরিসনস সুপারমার্কেটে এই প্রযুক্তির পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
‘ক্যাপার’ নামের এই স্মার্ট ট্রলি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনস্টাকার্ট। ট্রলিতে কোনো পণ্য রাখার সঙ্গে সঙ্গে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারে। একই সঙ্গে পণ্যের দাম যোগ করে মোট খরচ দেখায় এবং কেনাকাটার সময় সংশ্লিষ্ট কিছু পণ্যের সুপারিশও করতে পারে।
কেনাকাটা শেষে প্রচলিত ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে প্রতিটি পণ্য স্ক্যান করার প্রয়োজন নেই। ট্রলির পর্দায় থাকা তথ্য ব্যবহার করে পুরো কেনাকাটার হিসাব সম্পন্ন করা যায়। ফলে গ্রাহকদের সময় বাঁচার পাশাপাশি কেনাকাটার মোট ব্যয়ের ওপরও সহজে নজর রাখা সম্ভব হচ্ছে।
প্রেস্টন শহরের অ্যাশটন-অন-রিবল এলাকাই যুক্তরাজ্যে এই প্রযুক্তির প্রথম পরীক্ষামূলক ব্যবহার করছে। বিশ্বের শতাধিক শহরে ইতোমধ্যে এ ধরনের স্মার্ট ট্রলি ব্যবহৃত হচ্ছে। মরিসনস কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের আরও বিভিন্ন সুপারমার্কেটে এই প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা করছে।
গ্রাহকদের কাছ থেকেও নতুন ট্রলির প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। ম্যাথিউ বাইর্ন নামে এক ক্রেতা জানান, ট্রলির পর্দায় কেনাকাটার তালিকা ও মোট খরচ তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারায় তার বাজেটের মধ্যে থাকা অনেক সহজ হয়েছে। ৮০ পাউন্ডের বাজেট নিয়ে বাজার করতে এসে তিনি সেই সীমার মধ্যেই থাকতে পেরেছেন বলে জানান।
আরেক গ্রাহক কাজ বন্ড স্মার্ট ট্রলিকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এটি দৈনন্দিন কেনাকাটাকে অনেক সহজ করে এবং ভবিষ্যতে এমন ট্রলি আরও বেশি দোকানে দেখা যেতে পারে।
তবে সবার অভিজ্ঞতা একরকম নয়। ডেবি ফাইলস প্রথমবার ট্রলিটি ব্যবহারের সময় কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়লেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি চালানো শিখে নেন। তার মতে, ট্রলিটি কিছুটা ভারী এবং ঘোরানো কঠিন। ছোট আকারের মডেল তৈরি হলে তিনি আবার এটি ব্যবহারে আগ্রহী হবেন বলেও জানান।
যুক্তরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় কেনাকাটার প্রযুক্তি চালুর আগের কিছু উদ্যোগ খুব বেশি জনপ্রিয়তা পায়নি। তবে মরিসনস আশা করছে, পণ্য শনাক্তকরণ, খরচের হিসাব এবং সহজ পেমেন্ট সুবিধার সমন্বয়ে এআই স্মার্ট ট্রলি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। নতুন এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে সুপারমার্কেটে কেনাকাটার প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



