হিরো অফ দি ডে
আল-আজহারের মাস্টার্সে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঈর্ষণীয় সাফল্য
এক্সিলেন্ট ও ভেরি গুড ফলাফলে উজ্জ্বল ১২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
মিশরের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলে বিভিন্ন বিভাগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনটি বিভাগে ১২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এক্সিলেন্ট ও ভেরি গুড ফলাফল অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ছয়জন পেয়েছেন এক্সিলেন্ট এবং ছয়জন ভেরি গুড।বুধবার (১৯শে আগষ্ট) আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি ও আরবি বিভাগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মাস্টার্স ও ডক্টরেট পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করে কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমামের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নাহলা আল-সাঈদি, উপপরিচালক অধ্যাপক ড. সালেহ আহমেদ আবদেল ওয়াহাব, স্নাতকোত্তর শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক উপপরিচালক ড. শাহিদা মারেয়ি ও অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাওজি।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে এবিএম এনামুল হাসান মিনহাজ (চাঁদপুর) এক্সিলেন্ট ফলাফল অর্জন করেছেন। একই বিভাগে মাহমুদুল হাসান (শরীয়তপুর), হাবিবুর রহমান (যশোর) ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন (ফরিদপুর) ভেরি গুড ফলাফল অর্জন করেছেন।
ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্স বিভাগে এক্সিলেন্ট ফলাফল অর্জন করেছেন পাঁচ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন—চট্টগ্রামের মোহাম্মদ শোয়াইবুল ইসলাম, মো. রেজাউর রহমান, মোহাম্মদ নেছার আহমেদ ও মো. আরিফুল ইসলাম এবং চাঁদপুরের এনামুল হোসাইন।
এ ছাড়া আকিদা অ্যান্ড ফিলোসফি বিভাগে ভেরি গুড ফলাফল অর্জন করেছেন তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন—কুমিল্লার গোলাম রাব্বানী চৌধুরী, ঢাকার মোহাম্মদ জুনায়েদ এবং নারায়ণগঞ্জের মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন।
হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বাংলাদেশি কৃতী শিক্ষার্থী ও ক্লাস রিপ্রেজেনটেটিভ (সিআর) এবিএম এনামুল হাসান মিনহাজ বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি মাস্টার্স পরীক্ষায় অত্যন্ত সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। আল-আজহারে অধ্যয়নকালে ‘মুমতায’ তথা সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনকে তিনি জীবনের বিশেষ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিজের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের দোয়া, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণাকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এই পথচলা সম্ভব হতো না। একই সঙ্গে ক্লাস রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সহপাঠীদের একাডেমিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পাশে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর মধ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি আরও বিকশিত করেছে।
এনামুল হাসান মিনহাজ বলেন, বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাঁদের সান্নিধ্য ও দিকনির্দেশনা তাঁর একাডেমিক জ্ঞান ও দ্বীনি দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও গভীর ও সমৃদ্ধ করেছে।
অন্যদিকে, ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্স বিভাগের কৃতী শিক্ষার্থী ও ক্লাস রিপ্রেজেনটেটিভ মোহাম্মদ শোয়াইবুল ইসলাম বলেন, সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছেন তিনি। তাঁর তাওফিকেই মাস্টার্স পরীক্ষায় ‘এক্সিলেন্ট’ ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।
বাবা-মায়ের দোয়া ও সহযোগিতাকে নিজের সাফল্যের প্রধান শক্তি উল্লেখ করে শোয়াইবুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল হোসাইনের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর ভাষ্য, অধ্যাপক আবুল হোসাইন তাঁকে আল-আজহারে আসার পথ দেখিয়েছেন এবং তাঁর এই শিক্ষাযাত্রার অন্যতম কারিগর।
কায়রোতে পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। শোয়াইবুল ইসলাম বলেন, এই অর্জন তাঁর জীবনের শেষ নয়, বরং এটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ। ভবিষ্যতে আল-আজহার থেকেই এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। এ জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
আল-আজহারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য দেশের জন্যও গৌরবের বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের এ অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



