জেলার খবরহাইলাইটস

মরিচের ঝাল বেড়েছে, গরম মসলার বাজার জমজমাট

চট্টগ্রামঈদুল আজহা উপলক্ষে গরম মসলার বাজার এখন জমজমাট। খুচরা দোকানি ও বনেদি পরিবারগুলো ভিড় করছেন খাতুনগঞ্জের পাইকারি মসলার বাজারে। বৈধ অবৈধ পথে আসা এলাচ, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচে বাজার সয়লাব। কয়েক মাস ধরে গরম মসলার বাজার স্থিতিশীল থাকলেও গোটা মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে অন্তত ৫০ টাকা।
তবুও ব্যস্ততা বাড়ছে অলিগলির কলঘরে, যেখানে মসলা গুঁড়ো করা হয়। তবে নানা আতঙ্কও আছে ক্রেতাদের।
জিরার সঙ্গে ক্যারাওয়ে বীজ মেশানোর ঘটনা ধরা পড়েছে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে। আগে পচা নিম্নমানের মসলা গুঁড়ো করার এমনকি ভুষি মেশানোর ঘটনাও ধরা পড়েছিল।
 দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের আড়ত, খুচরা বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ বকশির হাট, রিয়াজউদ্দিন বাজার এবং বিবিরহাটের মসলার দোকানগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।বিক্রেতারা বলছেন, নতুন-পুরোনো, রং, সুবাস, আকার, উৎপাদনকারী দেশ, এলসি খরচ, পরিবহন ব্যয় ও মানভেদে মসলার দাম কমবেশি হচ্ছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় কিছু মসলার সরবরাহ বেশি। পাইকারি বাজারে দাম একটু ওঠানামা করলেও মোটামুটি স্থিতিশীল। তবে অন্যান্য বছরের মতো আশানুরূপ বেচাকেনা নেই এবার। গোটা মসলার চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব। দ্বিতীয়ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। তৃতীয়ত বড় পরিবার ভেঙে ছোট পরিবার বেড়ে যাওয়ায় রেডিমেড বা প্যাকেটজাত মসলার দিকে ঝোঁক বাড়ছে।চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম বাংলানিউজকে জানান, এলাচ, জিরাসহ কিছু গরম মসলা চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়েও আমদানি হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এলাচ ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১৫০ টন, দারুচিনি ১৩ হাজার ২৯৬ টন, লবঙ্গ ১ হাজার ৩৫০ টন, জিরা ৩ হাজার ১১৫ টন, জৈত্রিক ৩৫০ টন, জায়ফল ৩৩৬ টন, গোলমরিচ ১ হাজার ৯৫৯ টন, আদা ৪৫ হাজার ৫৩৮ টন, রসুন ৫৩ হাজার ১০১ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলাচ এসেছিল ১ হাজার ৮৪৬ টন, দারুচিনি ১৫ হাজার ৭৩৯ টন, গোলমরিচ ১ হাজার ৬৫৯ টন আমদানি হয়েছিল।

বকশির হাটের প্রসিদ্ধ খুচরা মসলার দোকান নিউ সততা স্টোরের মালিক দেলোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ভারতের এলাচ ৪ হাজার ৮০০ টাকা, আমেরিকান এলাচ ৪ হাজার ২০০ টাকা, শ্রীলংকার স্পেশাল দারুচিনি ১ হাজার ৫০ টাকা, ভিয়েতনামের ৪৮০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪৮০ টাকা, ভারতের চিকন জিরা ৬২০, মিষ্টি জিরা ২২০ টাকা, বাদাম ১৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

তিনি জানান, ২-৩ মাস আগে ভারতের মরিচ খুচরায় বিক্রি হতো ৩৬০ টাকার এখন ৪২৫ টাকা।

পাশের বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক জিয়াবুল ইসলাম জানান, গুয়েতেমালার এলাচি ৪ হাজার ৮০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪৮০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, টাইগার চিকনজিরা ৬০০ টাকা, মিষ্টি জিরা ২২০-২৫০ টাকা, জৈত্রিক ২ হাজার ৯০০ টাকা, জায়ফল ৮৫০-৯০০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ৪০০ টাকা, কালো গোলমরিচ ১ হাজার ২০০ টাকা, টক আলু বোখরা ১ হাজার ৫০০ টাকা, মিষ্টি আলুবোখরা ৪৮০ টাকা, কাঠবাদাম ১ হাজার ৩০০ টাকা।

খাতুনগঞ্জের সালাম ট্রেডার্সে পাইকারিতে এলাচি ৩ হাজার ৭২০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকা, চিকন জিরা ৫৩৫, মিষ্টি জিরা ১৬৩, দারুচিনি ৪১০, কালো গোলমরিচ ১ হাজার ১০, লবঙ্গ ১ হাজার ২৮০ টাকা।

হামিদউল্লাহ মার্কেটের মেসার্স হাজি মোহাম্মদ ইসহাক সওদাগর নামের মসলার দোকানে এলাচ ৩ হাজার ৭৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা, চিকন জিরা ৫২৫ থেকে ৫৩৫, মিষ্টি জিরা ১৬৫-১৭০, সাদা গোল মরিচ ১ হাজার ২২০ টাকা, কালো গোলমরিচ ১ হাজার ১০, দারুচিনি ৩৫০-৪২০, ভারতের মরিচ ৩৩৫-৩৮৫ টাকা, হাটহাজারীর মরিচ ৪০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের ফারুক ট্রেডার্সের মালিক ফারুক আহমদ জানান, ভারতের কম ঝালের মরিচ ৩৯০ টাকা, ঝাল মরিচ ৩৪০ টাকা। হাটহাজারীর মরিচ ৪০০ টাকা। দেশি গোটা হলুদ ১৮০ টাকা, ভারতের ২১৫ টাকা, দেশি গোটা ধনিয়া মানভেদে ১২০-১৫০ টাকা।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button