জেলার খবরহাইলাইটস

মাংসের আচারে গৃহবধূ তছলিমার স্বপ্নপূরণ, স্বাবলম্বী আরও ২৫ পরিবার

নীলফামারীনীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার এক গ্রামের গৃহবধূ উম্মে তছলিমা আকতারি। একসময় চাকরি ছেড়ে হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন তিনি। ব্যর্থ হয়েছিল প্রথম ব্যবসাও। কিন্তু থেমে যাননি। মাত্র ২ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন গরুর মাংসের আচার তৈরির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

সেই ছোট উদ্যোগই আজ রূপ নিয়েছে সফল প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠান ‘প্রিমি ফার্ম’-এ কর্মসংস্থান হয়েছে ২৫ জনের, যাদের অধিকাংশই নারী। আর মাসিক বিক্রি পৌঁছেছে প্রায় ৪০ লাখ টাকায়। সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বকশাপাড়া গ্রামের এই নারী উদ্যোক্তার গল্প এখন স্থানীয় নারীদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।

উম্মে তছলিমা আকতারির বাবার বাড়ি পাশের গ্রাম আইসঢাল খিয়ারপাড়ায়। গণিতে সম্মান ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ঢাকার একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছিলেন তিনি। তবে চাকরির পরিবেশ ভালো না লাগায় চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর শুরু হয় অনিশ্চয়তার সময়। তছলিমা জানান, চাকরি ছাড়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত নেন, চাকরি নয় নিজেই উদ্যোক্তা হবেন এবং অন্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন।

প্রথমে সৈয়দপুর শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেন। কিন্তু অল্প সময়েই লোকসানের মুখে পড়ে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ স্বামীর কাছ থেকে নেওয়া ২ লাখ টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করেন গরুর মাংসের আচার তৈরির ব্যবসা। শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ করলেও কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া পান। নিজ বাড়িতেই গড়ে তোলেন ‘প্রিমি ফার্ম’ নামে আচারের কারখানা। পাশাপাশি তৈরি করেন নিজস্ব গরুর খামার। খামারের স্বাস্থ্যবান গরুর মাংস দিয়েই তৈরি হয় বিশেষ এই আচার।

শুধু গরুর মাংস নয়, বর্তমানে জলপাই, চালতা, রসুন, বরই, তেঁতুল ও টমেটোর আচারেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে তাদের। প্রিমি ফার্মের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সনাতন পদ্ধতিতে আচার তৈরি। খড়ির চুলার আগুনে বড় বড় হাড়ি ও কড়াইয়ে বিশেষ মশলা এবং খাঁটি সরিষার তেলে রান্না করা হয় গরুর মাংসের আচার।

তছলিমা জানান, মায়ের কাছ থেকেই আচারের প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছেন তিনি। পরে ঢাকায় পুষ্টিবিদ্যা ও আচার প্রস্তুত বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেন। তিনি বলেন,“আমরা এখনো ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতেই আচার তৈরি করি। খড়ির চুলায় রান্না হওয়ায় আচারের স্বাদ আলাদা হয়। তবে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও আমরা খুব সচেতন। কর্মীদের অ্যাপ্রোন, ক্যাপ ও গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।” ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে অনুমোদনও পেয়েছে।

শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুককে প্রচারের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন তছলিমা। বাড়ির একটি কক্ষকে অফিস ও ছোট স্টুডিওতে রূপান্তর করেন তিনি। সেখান থেকেই নিয়মিত লাইভে এসে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন। তছলিমা বলেন,“গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই আমাদের বড় শক্তি। তারা পরামর্শ দেন, আবার লাইভ দেখেই অর্ডারও করেন।” প্রথমদিকে মাত্র ১০ হাজার টাকার অর্ডার পেলেও বর্তমানে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার অর্ডার আসছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button