মালয়েশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য চলতি মাসেই চালু হতে যাচ্ছে একটি ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল পোর্টাল। অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ এবং সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কিত তথ্য সহজে পাওয়ার সুবিধার্থে এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির উদ্যোক্তা ও সমবায় উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (এমইসিডি)।
মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কিয়ং জানান, শিল্পখাতের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতেই এই পোর্টাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসএমই সহায়তা সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় উদ্যোক্তারা সঠিক তথ্য পেতে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। পেনাংয়ে ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স (এফএমএম) আয়োজিত এক টাউন হল সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকার বাজেট ২০২৬-এর মাধ্যমে এসএমই খাতের জন্য ৫০ বিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দ দিয়েছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরও ১০ বিলিয়ন রিঙ্গিত ঘোষণা করেছেন। সব মিলিয়ে এই খাতে মোট ৬০ বিলিয়ন রিঙ্গিত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে তিনি বলেন, এই সহায়তা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা জানেন না কোথায় যোগাযোগ করতে হবে, কোন কর্মসূচি রয়েছে কিংবা কীভাবে অর্থায়নের সুযোগ পাওয়া যাবে। স্টিভেন সিম জানান, বর্তমানে পোর্টালটির উন্নয়ন কাজ চলছে এবং এটি চলতি মাসেই চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এটিকে এসএমইদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কারণ ছোট উদ্যোক্তাদের অন্যতম অভিযোগ হচ্ছে এত বেশি সংস্থা ও চ্যানেলের মধ্যে কোনটির কাছে যেতে হবে তা তারা বুঝতে পারেন না।
সংলাপে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শুধু ঋণের মাধ্যমে নয়, ব্যাংকিং খাত ও বেসরকারি মূলধনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেও এসএমইদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এসএমই সংগঠন, বণিক সমিতি এবং বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে এসএমই খাতের অর্থায়ন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। স্টিভেন সিম বলেন, সরকার চায় এসএমইগুলো আরও বড় হোক এবং প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠুক। তবে একই সঙ্গে সুশাসনের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেওয়া সহায়তা কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়। তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয় ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট ইকুইটি (পিই) কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করেছে, যাতে এসএমইদের জন্য বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো যায়।
তবে প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিছু স্থানীয় এসএমই প্রতিষ্ঠানের বাইরের বিনিয়োগ গ্রহণে অনাগ্রহ এবং পারিবারিক কোম্পানিগুলোর পরিচালন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। মন্ত্রী বলেন, প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাবনাময় এসএমইকে সহায়তা করতে আগ্রহী। কিন্তু কোম্পানির কাঠামো এবং বাইরের অংশীদারিত্ব গ্রহণের বিষয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।



