সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার মানুষের সঙ্গে কুকুরের সম্পর্কের ইতিহাসকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছে। BBC-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের সমারসেট অঞ্চলের একটি গুহা থেকে পাওয়া একটি চোয়ালের হাড় প্রমাণ করেছে যে প্রায় ১৫,০০০ বছর আগেই মানুষ ও কুকুরের ঘনিষ্ঠ সহাবস্থান শুরু হয়েছিল।
গবেষণায় জানা যায়, এই চোয়ালের অংশটি একটি প্রাচীন গৃহপালিত কুকুরের, যা পূর্বে ধারণা করা সময়ের তুলনায় প্রায় ৫,০০০ বছর আগের। অর্থাৎ, কুকুর মানুষের প্রথম গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে অনেক আগেই তাদের জীবনে প্রবেশ করেছিল, এমনকি কৃষিকাজ বা অন্যান্য প্রাণী গৃহপালনের আগেই।
বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, বরফ যুগের শেষদিকে ধূসর নেকড়ে মানব বসতির আশেপাশে ঘোরাফেরা করত এবং খাবারের উচ্ছিষ্ট খেত। ধীরে ধীরে তারা মানুষের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং এই সম্পর্ক ক্রমে বন্ধুত্বে রূপ নেয়। পরবর্তীতে মানুষ তাদের শিকার, পাহারা ও অনুসন্ধানের কাজে ব্যবহার করতে শুরু করে, যা কুকুরকে মানুষের অপরিহার্য সহযোগীতে পরিণত করে।
এই আবিষ্কারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই সময়ের কুকুরগুলো শুধু মানুষের সঙ্গে বাস করতই না, বরং একই ধরনের খাবারও গ্রহণ করত। এতে বোঝা যায়, তাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরশীল।
এছাড়া ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া একই সময়কার নমুনা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, এই কুকুরগুলো একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে এবং মানুষের সঙ্গে চলাচল করে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
সার্বিকভাবে, এই গবেষণা প্রমাণ করে যে মানুষ ও কুকুরের সম্পর্ক শুধুমাত্র ব্যবহারিক নয়, বরং এটি হাজার হাজার বছরের একটি গভীর ও পারস্পরিক নির্ভরশীল বন্ধন। বর্তমান সময়েও মানুষ ও কুকুরের মধ্যে যে আন্তরিক সম্পর্ক দেখা যায়, তার শিকড় এই প্রাচীন যুগেই প্রোথিত হয়েছিল।



