ডিফল্ট ক্যাটাগরি

গঙ্গা চুক্তি নবায়ন: এখনও শুরু হয়নি ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

গঙ্গা চুক্তি২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে ভারতের লোকসভায় দেওয়া মোদী সরকারের তথ্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মালা রায়ের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী এই ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চললেও বাংলাদেশের সঙ্গে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করেনি ভারত।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্বীকারোক্তি ঢাকার জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যখন ২০২৬ সালের পর গঙ্গার পানির হিস্যা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের কৃষি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ভারতের প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশটির অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে পরামর্শ করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত চারটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন এবং তাদের পানীয় জল ও শিল্পকারখানার প্রয়োজনের কথা জানিয়েছেন।

তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও রাজ্যগুলোর টানাপোড়েন এই চুক্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন যে, রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে দিল্লির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না। এমনকি ফারাক্কা বাঁধের কারণে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে নদী ভাঙনের জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন। এর পাশাপাশি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারও এখন এই চুক্তিতে অংশীদার হওয়ার দাবি তুলছেন, যা বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির হিস্যা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা এই আলোচনাকে আরও প্রলম্বিত করার শঙ্কা তৈরি করেছে। দীর্ঘকাল ধরে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সংবেদনশীলতা রয়েছে। যদি সময়মতো ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই চুক্তি নবায়ন না হয়, তবে ২০২৬ সালের পর বাংলাদেশে ভয়াবহ জল-সংকট ও পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার একদিকে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের দাবি সামাল দেওয়া এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তার চূড়ান্ত প্রতিফলন দেখা যাবে আগামী দিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা শুরু না হওয়া বাংলাদেশের জন্য এক প্রকার অনিশ্চয়তার বার্তাই দিচ্ছে।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button