
শ্রমিকদের টানা কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি আজ ষষ্ঠদিনের মতো চলছে। অচলাবস্থা নিরসনে আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে জরুরি সভা ডেকেছেন নৌ উপদেষ্টার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন। সভায় যোগ দিতে এসে শ্রমিক কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। জরুরি সভায় চট্টগ্রাম বন্দরের সকল সদস্য, প্রকল্প প্রধানগণ, ড্রাইডকের এমডি, এনসিটি পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরের অচলাবস্থার মধ্যে কন্টেইনার নিয়ে ১৮টি জাহাজ সাগরে এবং ১০টি জাহাজ জেটিতে আটকা পড়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে আগামী তিনদিনের ছুটি ও রমজানের বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্য বন্দরে আটকে পড়ার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক যথাসময়ে পৌঁছাতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানি ডিপিওয়াল্ডের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের দাবিতে গত শনিবার থেকে অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে বন্দরে সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে। আন্দোলনকারীদের বাধায় বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনালের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরী লিটন বলেন, সরকার ও শ্রমিকরা যার যার অবস্থানে অনড় রয়েছে।
বিজিএমইএর পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ মুনসুর বলেন, আন্দোলনের কারণে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এশিয়া গ্রফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ছালাম বলেন, এভাবে বন্দর অচল হয়ে পড়লে দেশে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের সংকটে পড়বে দেশ। পাশাপাশি রমজানের আমদানি করা পণ্য ডেলিভারি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে রপ্তানির অপেক্ষায় আছে ১১ হাজার কন্টেইনার। বন্দর ও জাহাজে থাকা কন্টেইনার যোগ করলে আটকে থাকা রপ্তানি কন্টেইনার সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৩ হাজার। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে। সেখানে চলমান অচলাবস্থায় কারণে গত ৬ দিন বড় ধরনের ধস নেমেছে।



