বিদেশহাইলাইটস

তেহরানে বসছেন সৌদি-তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তেহরানে ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ‘মক্কা চুক্তি’ ভুক্ত দেশ, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বৃহত্তর ইরান-সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার পর, এটিই দেশগুলোর মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বৈঠকটি হতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল শুরু হয়েছে, কি হতে যাচ্ছে, এই সময়ে কেন এই বৈঠক।

সৌদি ও ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের প্রতিনিধিত্ব করবেন গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বাগ্‌যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। উভয় দেশই বৃহত্তর যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যা সম্ভবত ৩রা নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ঘটতে পারে।

সৌদি আরব এই সংঘাতের গভীরে জড়িয়ে পড়ার পর, সোমবারের পরিকল্পিত আলোচনাটি হবে ইরান এবং এই তিন-দেশীয় জোটের সকল সদস্যের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ অনুযায়ী, জোটের কোনো এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানিয়েছেন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনায় ‘ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও লেবাননের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া’—এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বাঘাই বলেছেন, গত সপ্তাহে মুনিরের তেহরান সফরের সময় প্রস্তাবিত এই বৈঠকটি আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বার্থের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।

ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মুনিরের তেহরান সফরের সময় পাকিস্তানই এই বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছিল, সফরকালে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই সফরের সময় ইরানি কর্মকর্তারা তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই চুক্তিটি দ্রুত ভেস্তে যায়।

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার উপ-সচিব আলী বাকেরি-কানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনার জন্য সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ, পাকিস্তানের মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন তেহরান সফর করবেন।

সৌদি আরবের পাবলিক ডিপ্লোমেসি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি জানিয়েছেন, এই বৈঠকটি ‘মক্কা প্যাক্ট’ (Mecca Pact)ভুক্ত দেশগুলোর চলমান প্রচেষ্টার অংশ। এর লক্ষ্য হলো বর্তমান সংকট প্রশমিত করা, কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করা এবং কাতার ও পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন জোগানো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ রায়েদ ক্রিমলি লিখেছেন, “এই সফরটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ‘মক্কা প্যাক্ট’ভুক্ত দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং এই লক্ষ্য অর্জনে অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে কাজ করার প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।”

এমন আরো সংবাদ

Back to top button