বিদেশ
মালয়েশিয়ায় বৃহত্তম হালাল প্রদর্শনীর ২২তম আসর
বাংলাদেশের ৬ প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক মিশনে দুই চেম্বারের ৫৪ সদস্য
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস—এমআইএইচএএসের ২২তম আসরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস লার্জেস্ট হালাল শোকেস’ প্রতিপাদ্যে এবারের আয়োজন শুধু হালাল পণ্যের প্রদর্শনী নয়, বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরির অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সামনে আসছে।এবারের এমআইএইচএএসে বাংলাদেশেরও উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকছে। বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে ছয়টি প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনীতে অংশ নেবে। মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণই এ অংশগ্রহণের অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে এমআইএইচএএসকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ থেকে দুটি ব্যবসায়ী সংগঠনের পৃথক প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া সফর করছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি—ডিসিসিআইয়ের ৩৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ১৫ সদস্যের আরেকটি প্রতিনিধিদল একই সময়ে মালয়েশিয়ায় থাকবে। ফলে দুই চেম্বারের মোট ৫৪ সদস্যের অংশগ্রহণে দেশটির ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুর সফর করবে। এ সফরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ডিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতারা। ক্ল্যাং চাইনিজ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স এবং ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ও বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) সেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। সরাসরি ব্যবসায়ী-ব্যবসায়ী যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হবে।
২৪ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠেয় এমআইএইচএএস-২০২৬-এ অংশ নেবে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল। সেখানে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা হালাল শিল্প, বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে মতবিনিময় করবেন।
বিশ্বজুড়ে হালাল অর্থনীতির পরিধিও দ্রুত বাড়ছে। খাদ্য ও পানীয়ের পাশাপাশি প্রসাধনসামগ্রী, ওষুধ, পর্যটন, ইসলামিক অর্থনীতি, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সেবাখাত এখন এ বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্য, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য ও প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় পণ্যের জন্য হালাল বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরকালে মালয়েশিয়া সরকারের পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতিমন্ত্রী টিয়ং কিং সিং এবং উপঅর্থমন্ত্রী লিউ চিং টংয়ের সঙ্গে ঢাকা চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক হালাল শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এমআইএইচএএসের ২২তম আসর দেশটির সেই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তাদের নতুন বাজার, বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সুযোগ করে দিচ্ছে। বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ এবং দুই চেম্বারের ব্যবসায়িক মিশন এবারের আয়োজনকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে সামনে আনছে।



