বিদেশ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রি-প্যালেস্টাইন মিছিল নিষিদ্ধের হুমকিতে যুক্তরাজ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক

প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিল নিষিদ্ধের হুমকিতে যুক্তরাজ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক
যুক্তরাজ্যে প্রোপ্যালেস্টাইন মিছিল আংশিকভাবে নিষিদ্ধ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার, যা নিয়ে আয়োজকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, এমন সিদ্ধান্ত দেশের মতপ্রকাশ সমাবেশের মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত হানতে পারে।

শনিবার এক সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, কিছু পরিস্থিতিতে তিনি নির্দিষ্ট প্রোপ্যালেস্টাইন বিক্ষোভ বন্ধ করার পক্ষে থাকতে পারেন। একই সঙ্গে কিছু স্লোগানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করেগ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফিদাস্লোগানটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছেকেননা কেউ কেউ এটিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির প্রকাশ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা এটিকে সহিংসতার আহ্বান হিসেবে ব্যাখ্যা করে থাকেন।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর কয়েকটি হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য এসেছে। উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় দুই ইহুদি ব্যক্তির ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রোপ্যালেস্টাইন মিছিলের অন্যতম আয়োজক সংগঠনস্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশন’এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জন রিস এই প্রস্তাবকে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এমন নিষেধাজ্ঞা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ সহিংসতা চলতে থাকলে মানুষ প্রতিবাদ জানাতে থাকবে। তার দাবি, এসব মিছিলে অংশগ্রহণকারী মানুষের মধ্যে অল্প সংখ্যকই বিতর্কিত আচরণে জড়িত এবং আয়োজকেরা এমন স্লোগান ব্যবহার না করতে অংশগ্রহণকারীদের অনুরোধ করে থাকেন।

এদিকে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনোচ এসব মিছিল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, এসব বিক্ষোভ কখনো কখনো ইহুদিদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি সহিংসতা উসকে দিতে ব্যবহৃত হয়। তবে আয়োজকদের দাবি, এসব মিছিলে অনেক ইহুদি নাগরিকও অংশ নেন, যারা ইসরায়েল সরকারের নীতির বিরোধিতা করেন।

অন্যদিকে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মার্ক রাওলি সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ধারণার সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন অত্যন্ত জটিল এবং এগুলি আরও স্পষ্ট শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। তবে পুলিশের জন্য অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।  সামগ্রিক পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button