শিক্ষাহাইলাইটস

১১ দফা দাবি নিয়ে সড়কে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি চলছে

 নিরাপদ সড়কের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত
নিরাপদ সড়কের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত

নিরাপদ সড়কের ১১ দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আবারও সড়কে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর রামপুরা ব্রিজে আজ বুধবার সকালে একরামুন্নেসা উচ্চবিদ্যালয় এবং ইমপেরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে যান চলাচল সীমিত করে দেয়। এ সময় তাঁরা বেশির ভাগ গাড়ি চালকের লাইসেন্স এবং কাগজপত্র দেখেন।

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, তাঁদের ১১টি দাবির বেশির ভাগ এখনও উপেক্ষিত। সব দাবির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সড়ক ছাড়বেন না বলে জানান। এদিকে, যান চলাচল সীমিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মমুখী নগরবাসী।

শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবি

১. সড়কে নির্মম কাঠামোগত হত্যার শিকার নাঈম ও মাঈনউদ্দিনের হত্যার বিচার করতে হবে। তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গুলিস্তান ও রামপুরা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পথচারী পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

২. সারা দেশে সব গণপরিবহণে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। হাফ পাসের জন্য কোনো সময় বা দিন নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে না। বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। সব রুটে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।

৩. গণপরিবহণে ছাত্র-ছাত্রী এবং নারীদের অবাধ যাত্রা ও সৌজন্যমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন চালককে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ’র দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. সব রাস্তায় ট্রাফিক লাইট, জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করাসহ জনবহুল রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. বাসগুলোর মধ্যে বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধে এক রুটে এক বাস এবং দৈনিক আয় সব পরিবহণ মালিকের মধ্যে তাদের অংশ অনুয়ায়ী সমানভাবে বণ্টন করার নিয়ম চালু করতে হবে।

৭. শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র নিশ্চিত করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে। চুক্তিভিত্তিতে বাস দেওয়ার বদলে টিকেট ও কাউন্টারের ভিত্তিতে পুরো পরিবহণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. গাড়ি চালকের কর্মঘণ্টা একনাগাড়ে ছয় ঘণ্টার বেশি হওয়া যাবে না। প্রতিটি বাসে দুজন চালক ও দুজন সহকারী রাখতে হবে। পর্যাপ্ত বাস টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। পরিবহণ শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৯. যাত্রী, পরিবহণ শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে সড়ক পরিবহণ আইন সংস্কার করতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

১০. ট্রাক, ময়লার গাড়িসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে।

১১. মাদকাসক্তি নিরসনে পুরো সমাজজুড়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চালক-সহকারীদের জন্য নিয়মিত ডোপ টেস্ট এবং কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

সম্প্রতি সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করার পর বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এরপর গণপরিবহণে অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে শুক্রবার সড়কে রাজধানীর নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনার পর আবারও সরব হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সের উল্টো দিকে ডিএনসিসির ময়লার গাড়ির চাপায় প্রাণ হারান সংবাদকর্মী আহসান কবির। শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে নিরাপদ সড়কের দাবিও এর ফলে আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

এদিকে, আজ বুধবার থেকে ঢাকার বাসে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া কার্যকর হচ্ছে। বাসে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র প্রদর্শনসহ কিছু শর্ত মেনে হাফ ভাড়া কার্যকর হচ্ছে। যেদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে, শুধু সেদিনই পাওয়া যাবে এই সুবিধা। আর রাত ৮টা পার হলেই দিতে হবে পুরো ভাড়া।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button