হাইলাইটস

নেত্রকোনায় নতুন ঘর পাচ্ছে ৯৬০ গৃহহীন পরিবার

নেত্রকোনায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ১০ উপজেলার ৯৬০টি ভূমিহীন গৃহহীন পরিবার।
নেত্রকোনায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ১০ উপজেলার ৯৬০টি ভূমিহীন গৃহহীন পরিবার।

নেত্রকোনায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ১০ উপজেলার ৯৬০টি ভূমি ও গৃহহীন দরিদ্র পরিবার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোনা জেলায় ভূমিহীন গৃহহীন অসহায় এসব পরিবারের মধ্যে উপহার দেওয়া হচ্ছে এই আধাপাকা নতুন ঘরগুলো। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে  এসব ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।

‘শেখ হাসিনার অবদান, গৃহহীনের বাসস্থান, ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার, এই স্লোগানে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের স্থায়ীভাবে বাসযোগ্য বাসভবন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১৬ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে এসব ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে জেলা সদরে ৪৩টি, বারহাট্টায় ৪৫টি, আটপাড়ায় ৯৮টি, পূর্বধলায় ৫৩টি, দুর্গাপুরে ৩৫টি, কেন্দুয়ায় ৫০টি, কলমাকান্দায় ১০১টি, মদনে ৫৬টি, মোহনগঞ্জে ৩৬টি এবং হাওর উপজেলা খালিয়াজুরিতে ৪৪৩টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রত্যেকটি পরিবারের নামে বরাদ্দকৃত এক লাখ ৭১ হাজার করে টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৯ দশমিক ৬ ফুট বাই ২২ ফুটের দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্না ঘর, সংযুক্ত পায়খানা-গোসলখানা ও সামনে বারান্দাসহ রঙিন টিনের ছাউনি দ্বারা এসব ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। যার পুরোটাই বহন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।

এ ছাড়া এসব পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ এবং পানি সরবরাহে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) ব্যবস্থাপনায় প্রতি ১০টি পরিবারের জন্য একটি করে সাবমারসিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকির মাধ্যমে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ঘর নির্মাণের কাজ।

প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করছেন জেলা প্রশাসক কাজী মো. আব্দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা কমিটির অন্য সরকারি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও নিয়মিত মনিটরিং করছেন গৃহ নির্মাণ কাজের।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রকল্পে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রবীণ ভূমিহীন ব্যক্তিদের উপকারভোগী হিসেবে বাছাই করা হয়েছে।’

নেত্রকোন সদরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদ বলেন, ‘সদরের বড়গাড়া এলাকায় ২২ জন, রাজেন্দ্রপুরে ১৪ জন, লক্ষ্মীগঞ্জে চারজন ও ব্যক্তি উদ্যোগে দান করা জায়গায় তিনজনকে ঘর ও জমি দিয়ে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে।’

জেলার আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা সুলতানা বলেন, ‘উপজেলার শুনই, দুওজ ও সুখারী এই তিন ইউনিয়নে গুচ্ছগ্রাম-২ পর্যায় নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। উপজেলার সুখারি  ইউনিয়নের সোনাজুর মৌজায় ২ একর ভূমির ওপর ২০টি, শুনই ইউনিয়নের ভরতোষী গ্রামে এক একর ৮৬ শতাংশের ওপর ৫০টি ও দুওজ ইউনিয়নের শ্রীপুর চারিগাতিয়া মৌজায় ২৮টি পরিবার পুনর্বাসনের কাজ চলছে। মোট ৯৮ জন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা হবে। এরই মধ্যে গৃহ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন আটপাড়া-কেন্দুয়ার সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৫ আল মামুন মুর্শেদ।’

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হাওড়াঞ্চলের ওই উপজেলায় ৪৪৩টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। হাওড়ে ঢেউয়ের ভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি বিবেচনা করে সুবিধাজনক স্থানে তাদের জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টেকসই ও সুন্দর ঘর নির্মাণ করা হয় তাই সব সময় তদারকি করা হচ্ছে।’

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা খানম বলেন, ‘উপজেলার চণ্ডীগড়, ফান্দা ও কৃষ্ণেরচর এলাকার ৩৫টি অসহায় ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারকে নতুন ঘরে তৈরি করে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক কাজী মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘর ও জমি বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এরই মধ্যে প্রত্যেকটি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’

এমন আরো সংবাদ

Back to top button