জেলার খবর

বাঁধ পুন:নির্মাণের দাবিতে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম

বিরামপুর (দিনাজপুর): একদিকে চলছে বিলের জমিতে ধানচাষের দাবি ও ক্রসড্যামের বাঁধ পুন:নির্মাণের বিরুদ্ধে ২৫ গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুদের মানববন্ধনসহ ১৩ দিন ধরে আমরণ অনশন। অন্যদিকে আশুরার বিলের সৌন্দর্য রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের জোর দাবিতে উপজেলার সুশীল সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিভাগীয় কমিশনারের নিকট স্বারকলিপি প্রদান। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দিনাজপুর বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলা সীমান্তে আশুরার বিলে ক্রসড্যামের বাঁধরক্ষা ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার দাবিতে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। এর আগে উপজেলা পরিষদের প্রবেশদ্বারের সামনে প্রধানসড়কে প্রায় দেড়হাজার মানুষের উপস্থিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পক্ষ সাতদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বাঁধ পুন:নির্মাণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে নবাবগঞ্জ ক্লাব এন্ড লাইব্রেরী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, নবাবগঞ্জ বণিক সমিতি, কারিগরি মহাবিদ্যালয়, নবাবগঞ্জ উপজেলা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, রিক্সা ও ভ্যানচালক শ্রমিক ইউনিয়ন, ট্রাক-ট্যাংকলরী কার্ভার ভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়ন ও উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানসহ অনেক বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনসূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার শালবনকে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গত বছর ফেব্রুয়ারী মাসে উদ্যানের ভিতর ৯‘শ মিটার দৈর্ঘের দৃষ্টিনন্দন আঁকাবাঁকা “শেখ ফজিলাতুন্নেছা কাঠের সেতু” নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে ২২ জুন বিলে পানি ধরে সরকারি উদ্যোগে মাছচাষ ও বিলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আগমন ঘটানোর পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্বাহী প্রকৌশল ও বিএডিসি’র যৌথ উদ্যোগে ১৮ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্রসড্যামসহ একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
বাঁধ নির্মাণের পরে চলতি বছরের জানুয়ারীতে বিলের পাড়ের কৃষকরা বাঁধটি কেটে দেয়। পরে দিনাজপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খরচ করে বাঁধটি মেরামত করেন। গত দুইমাস আগের বন্যায় ক্রসড্যামের পাশে নির্মাণ করা বাঁধটি আবারো ভেঙে যায়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ৩১ অক্টোবর বিকালে বাঁধটি পুন:নির্মাণের জন্য সেখানে এক্সকাভেট মেশিন নিয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বাধা দেয়। সেইদিন থেকে বাঁধের উপরে ২৫ গ্রামের কয়েক হাজার নারী ও পুরুষরা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে আমরণ কর্মসূচী পালন করে আসছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান রক্ষা কমিটির সভাপতি মো. মাহাবুর রহমান বলেন,‘বিলের পাড়ে বসবাসকারি লোকজন আশুড়ার বিলের জমিগুলো অবৈধভাবে ভোগ-দখল করে আসছিল। স্থানীয় প্রশাসন সেই জমিগুলো উদ্ধার করে বিলের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য সেখানে শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রাখার জন্য ক্রসড্যামসহ বাঁধ নির্মাণ করে। তখন থেকেই একটি চক্রটি সেখানে বাধা দিয়ে আসছিল। এ চক্রটি সরকারের কোন ধরণের উন্নয়ন সহ্য করতে পারে না।’

নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ ক্লাব এন্ড লাইব্রেরীর সভাপতি শাহ্ মো. জিয়াউর রহমান মানিক বলেন, ‘বিলের পাশে হরিপুর গ্রামের লোকজন আশুরার বিল এলাকায় বসবাস শুরুর পর থেকে বিলের জমিগুলো অবৈধভাবে দখল করে আসছিল। বর্তমান সরকার শালবনকে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পরে বিলের বেদখল সরকারি জমিগুলো উদ্ধার করে। পরে সেখানে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ক্রসড্যাম নির্মাণ করে।’
তিনি আরো বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রসড্যামের বাঁধের সংস্কার কাজ শুরু না হলে নবাবগঞ্জবাসী লংমার্চ করে সেখানে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে এবং নিজেদের উদ্যোগেই বাঁধ সংস্কার করবে।

স্বারকলিপি গ্রহণের সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. নাজমুন নাহার বলেন,‘নবাবগঞ্জ অংশে আশুড়ার বিলের প্রায় ৫৯৪ একর ও শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানে বনবিভাগের প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমি রয়েছে। বিলের পাড়ের বসবাসকারিরা বিলের মধ্যে যেসব জমি নিজের জমি বলে দাবি আসছে তাদের নিকট ওই জমির পক্ষে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এগুলো সরকারি সম্পত্তি। সরকারি সম্পদ ও বাঁধ রক্ষায় উপজেলার জনগণ আজ স্বারকলিপি দিয়েছেন। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

মাধ্যম
নূরে আলম সিদ্দিকী নূর

এমন আরো সংবাদ

Back to top button