প্রযুক্তিহাইলাইটস

হাল ছাড়েননি সোহাগ, এখন ফ্রিল্যান্সিং করে আয় ৩ লাখ টাকা

মো. সাইফুর রহমানসংগৃহীত
মো. সাইফুর রহমানসংগৃহীত

মো. সাইফুর রহমান। কাছের মানুষের কাছে সোহাগ। বেড়ে উঠেছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বেশীনগর গ্রামে। বাবা সৌদিপ্রবাসী।  ২০১৭ সালে, যখন এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেন সোহাগ। সে সময়েই হঠাৎ প্রবাসী বাবা দেশে ফিরে এলেন। এসব ঘটনার ফলাফল হিসেবে সোহাগকে কুমিল্লার একটি তেল কারখানায় চাকরি নিতে হয়। খুব সামান্য বেতন। তবে সোহাগ চাইছিলেন নিজের মতো করে কিছু করতে।

২০১৮ সালে বড় ভাই ও বন্ধুর পরামর্শে চাকরি ছেড়ে কুমিল্লা থেকে কুষ্টিয়ায় ফিরে আসেন। ৯০ দিনের ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোর্সে ভর্তি হন স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে।  প্রাথমিকভাবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা সইওর কাজও শিখে ফেললেন সোহাগ। ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্সিং কাজ দেওয়া–নেওয়ার ওয়েবসাইট বা অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফাইভআরে নিজের অ্যাকাউন্ট খুললেন।

২০১৯ সালের ১৮ অক্টোবর লোপাস রোগে প্রিয় বন্ধুকে হারান সোহাগ। এ ঘটনাটি তাঁর মনে ভীষণ নাড়া দেয়। একরকম স্তব্ধ হয়ে যান তিনি। সব ছেড়ে একেবারে দিশাহীন হয়ে পড়েন। সার্চ ইঞ্জিন বিপণনের (এসইএম) মতো বিষয় নিয়ে লেগে থাকেন। টানা এক বছর চেষ্টা করেন নতুন নতুন বিষয়ে নিজের জানাশোনার পরিধি বাড়ানোর। সোহাগের পেশাজীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সময় ছিল করোনাকাল। বিশ্বজুড়ে লকডাউন। ২০২০ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফেসবুক ঘাঁটতে ঘাঁটতে তিনি স্কিলআপার ফর ডিজিটাল স্কিলস নামে একটি গ্রুপ দেখতে পান। গ্রুপে সাধারণ একজন সদস্য হিসেবে যোগ দেন। গ্রুপের পোস্টসহ বেশ কিছু ইউটিউব ভিডিও দেখা শুরু করেন।

কিছুদিন পর স্কিলআপার গ্রুপে গুগল অ্যাডস ও গুগল অ্যানালিটিকসের লাইভ কোর্স সম্পন্ন করেন সোহাগ। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি এখন ফাইভআর ও আপওয়ার্কের টপ রেটেড সেলার। তাঁর মাসিক আয় প্রায় তিন হাজার ডলার। নিজের একটি এজেন্সিও খুলেছেন সোহাগ। সাতজন কর্মী কাজ করেন সেখানে। এ ছাড়া কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে সদ্য স্নাতকও শেষ করেছেন। চেষ্টা করেছেন উচ্চশিক্ষা নিতে বিদেশে যাওয়ার। সাইফুর রহমান সোহাগের স্বপ্ন এখন গ্রামের অসচ্ছল যুবকদের জন্য কিছু করা।

সোহাগ বলেন, ‘নিজ গ্রামে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছি—একটি খামার, যেখানে ২০ জনের কর্মসংস্থান হবে। আর ২০টি কম্পিউটার দিয়ে একটি উন্মুক্ত সাইবার ক্যাফে কাম প্রশিক্ষণকেন্দ্রও খুলতে চাই, যেখানে গ্রামের তরুণ–যুবকেরা বিনা মূল্যে একই সঙ্গে কাজ শিখতে ও করতে পারবে।’

এমন আরো সংবাদ

Back to top button