এন্টারটেইনমেন্ট

ঢালিউডে ৬ মাসে আলোচিত সিনেমা ও গান

বছরের প্রথম ছয় মাসে সিনেমার মতো খুব বেশি সিনেমার গানও আলোচনায় ছিল না। এর মধ্যে শাকিব খান অভিনীত সিনেমার গানগুলোই দর্শকদের মধ্যে বেশি আলোচিত হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩০টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসাসফল হয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি সিনেমা। বছরের প্রথমদিকে যেসব ঢাকাই সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল তার একটাও তেমন ব্যবসা সফল হয়নি, তেমনটা আলোচনায় আসতে পারেনি। যেমন— ‘কাগজের বউ’, ‘শেষ রক্ষা’, ‘ছায়াবৃক্ষ’ এপ্রিলে ঈদুল ফিতরে ১১টি সিনেমা মুক্তি পায়। এর মধ্যে আলোচনার শীর্ষে ছিল শাকিব খান অভিনীত হিমেল আশরাফ পরিচালিত ‘রাজকুমার’। সিনেমা সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ২৬ কোটি টাকা ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। মাল্টিপ্লেক্সেও দীর্ঘদিন ধরে সিনেমাটি চলেছে। তবে, সিনেমাটি গত বছর মুক্তিপ্রাপ্ত শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার চেয়ে কম ব্যবসা করেছে।

ঈদুল ফিতরে আলোচিত অন্য সিনেমাগুলোর মধ্যে ছিল মিশুক মনি পরিচালিত শরীফুল রাজ ও শবনম বুবলি অভিনীত ‘দেয়ালের দেশ’। এই সিনেমায় শবনম বুবলির অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ঈদুল ফিতরে আরও আলোচনায় ছিল মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘ওমর’ ও গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত রাজ-মন্দিরা অভিনীত ‘কাজল রেখা’। তেমন ব্যবসার দিক থেকে সিনেমা দুটি তেমন সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারেনি।

আবার একইসঙ্গে রাজ অভিনীত তিনটি সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় দর্শকদের অনেকেই ‘বৈ

চিত্রতার ঘাটতি’ অনুভব করেছেন। ঈদুল ফিতরে ‘মোনাজ্বিন-২’ নামে আরেকটি সিনেমা মাল্টিপ্লেক্সে কিছুটা চলেছে।  ঈদের পর তাসনিয়া ফারিণ অভিনীত বাংলাদেশে তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘ফাতিমা’ কিছুটা আলোচনা ছিল। তবে সিনেমাটি ব্যবসা সফল হয়নি। গেল কোরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে মোট পাঁচটি সিনেমা। এর মধ্যে শাকিব খান অভিনীত রায়হান রাফী পরিচালিত ‘তুফান’ সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে সিনেমাটি ব্যবসাসফলও হয়েছে। এর মধ্যে ‘তুফান’ স্টার সিনেপ্লেক্সে রেকর্ড করেছে বেশি শো চালিয়ে। সিনেমাটি বিদেশেও দর্শকদের আলোচনায় ছিল। তবে কোরবানির ঈদে মুক্তি পাওয়া অন্য সিনেমাগুলো তেমন আশার আলো দেখেনি।

ছয় মাসে আলোচিত গান

বছরের প্রথম ছয় মাসে সিনেমার মতো খুব বেশি গানও আলোচনায় ছিল না। এর মধ্যে শাকিব খান অভিনীত সিনেমার গানগুলোই দর্শকদের মধ্যে বেশি আলোচিত হয়েছে। ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রাজকুমার’ সিনেমার ‘ও রাজকুমার’ শ্রোতাপ্রিয় হয়৷ দ্বৈতকন্ঠে গানটি গেয়েছেন কোনাল ও বালাম। একই সিনেমায় আলিফ গেয়েছেন ‘বরবাদ’, এ গানটিও শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

ন্যান্সি-ইমরানের দ্বৈতকন্ঠে ‘লিপিস্টিক’ সিনেমার ‘নিন্দুকে’ গানটিও শ্রোতারা পছন্দ করেছেন। ‘দেয়ালের দেশ’ সিনেমায় মিথুন চাক্রার কণ্ঠে ‘বিসর্জনের ব্যথা’ গানটিও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। এছাড়াও আলোচনায় ছিল ‘কাজলরেখা’ সিনেমার ‘ঘুমাইলা ঘুমাইলা বন্ধু’ গানটি।

কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তুফান’ সিনেমার ‘লাগে উড়া ধুরা’ গানটি প্রথমে আলোচনায় আসে। প্রীতম হাসান ও দেবশ্রী অন্তরার গানটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গানটিতে প্লেব্যাক করে আলোচনায় এসেছেন তরুণ কণ্ঠশিল্পী দেবশ্রী অন্তরা। অন্যদিকে, ভিডিওতে শাকিব-মিমির পাশাপাশি সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসানের উপস্থিতিও দর্শকদের চমকে দিয়েছে।

ট্রেন্ডিংয়ে ছিল ‘তুফান’ সিনেমার আরেক গান ‘দুষ্টু কোকিল’। গানটির কণ্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কণা।  বছরের প্র‍থমদিকে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা তেমন একটা না চললেও দুই ঈদকে ঘিরে সিনেমা হলগুলোতে দর্শকের উপস্থিতি বেড়েছিল। তবে পরের ছয় মাসে কতগুলো সিনেমা ও গান দর্শক ও শ্রোতাদের আলোচনায় আসে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button