কৃষিহাইলাইটস

ভুট্টা চাষে ঘুরে গেছে কৃষকের ভাগ্যের চাকা

ভুট্টা চাষে ঘুরে গেছে কৃষকের ভাগ্যের চাকা কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ঠাকুরগাঁও জেলায় ভুট্টা চাষ দিন দিন বেড়ে চলেছে। ধান ও অন্য ফসল চাষে লাভ কম হওয়ায় বিকল্প ফসল হিসেবে ভুট্টা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উচ্চ ফলনশীল জাত, অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ অঞ্চলে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। ভুট্টা চাষ করে ঘুরে গেছে অনেক কৃষকের ভাগ্যের চাকা। ১ বিঘা জমিতে ২২ হাজার টাকা খরচ করে ভুট্টা পাওয়া যায় ৩৫ মণ। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৫০ হাজার টাকা। দেশীয় জাতের ভুট্টায় তেমন লাভ না হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকেরা হাইব্রিড জাতের ভুট্টা চাষ করছেন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি অফিস জানায়, এবার জেলায় ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত চাষ হয়েছে ৩৮ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা প্রতি হেক্টরে ১১.৭৫ মেট্রিক টন। যার মোট উৎপাদন ৪ লাখ ৪০ হাজার ১৭৬ মেট্রিক টন।

আমন ধান কেটে নেওয়ার পরপরই ভুট্টার বীজ বপন করেন কৃষকেরা। গাছগুলো বেশ বড়ও হয়ে উঠেছে। এখন ক্ষেতগুলোর পরিচর্যা, নিড়ানি এবং সেচ কাজসহ নানা কাজ চলছে। ভুট্টা চাষের জন্য কৃষকেরা পটাশ, ডিএপি, জিপসাম, সালফার ও ফোরাডান, ইউরিয়া, দস্তা ইত্যাদি সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরে দুবার হাইব্রিড ভুট্টার চাষ হয়। রবি মৌসুমে ভুট্টা কৃষকের ঘরে তুলতে সময় লাগে ৫ মাস। পরে যে ভুট্টা আবাদ করা হয়, সেটি আড়াই মাসে পাওয়া যায়। প্রথমবার ভালো ও পরে কম ফলন হয়। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর চৌধুরীপাড়া গ্রামের ভুট্টা চাষি করিম শেখ বলেন, ‘সার, কীটনাশক ও সেচের দিক থেকে দেশি জাতের ভুট্টার চেয়ে হাইব্রিড ভুট্টায় খরচ কম। তাই চাষিরা হাইব্রিড ভুট্টার চাষ বেশি করেন।’

চিলারং এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘ভুট্টায় কিছু রোগ আছে। এর মধ্যে পাতায় পোকা লেগে পাতা খেয়ে ফেলে। এটি বেশি ক্ষতিকর। এ কারণে ১ মাস বয়সে কীটনাশক দিতে হয়। ক্ষেতে সেচ ও পর্যাপ্ত সার দিলে উৎপাদন ভালো হয়। অন্য ফসলের তুলনায় ভুট্টার আবাদ লাভজনক তাই ভুট্টা চাষ করি।’

এমন আরো সংবাদ

Back to top button