কৃষিজেলার খবর

নড়াইলে ২০ কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রির আশা কৃষকের

নড়াইলে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে ড্রাগন ফলের চাষ ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী
নড়াইলে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে ড্রাগন ফলের চাষ ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

দেশের বাজারে চাহিদা থাকায় নড়াইলে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে ড্রাগন ফলের চাষ। চলতি বছর জেলায় অন্তত ২০ কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। এছাড়া নতুন নতুন বাগান তৈরি হওয়ায় সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থানের। ২০২২ সালের শুরুতে কালিয়া উপজেলার মাউলি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে ইটভাটা বন্ধ করে ড্রাগন বাগান করেন শিক্ষক মরফুদুল হাসান পলাশ। নবগঙ্গা নদীর পাড়ে ১০০ বিঘা জমিতে তৈরি বাগানে রোপণ করা হয় বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের ড্রাগনের চারা। এখানে রয়েছে রেড ভেলভেট, আমেরিকান বিউটি, ইসরায়েল ইভলো, ভিয়েতনাম রেড, ভিয়েতনাম হোয়াইট, পলোরাসহ ১২টি জাতের ড্রাগন ফল। বাগানে কাজের সুযোগ হয়েছে অন্তত ২৫ শ্রমিকের।

চাষী মরফুদুল হাসান পলাশ  বলেন, ‘গাছ রোপণের ছয় মাস পর থেকে ফল আসতে শুরু করেছে। পরিপূর্ণভাবে ফল এলে প্রতি একর জমি থেকে বছরে ১২-১৫ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা যায়। খরচ বাদে একরপ্রতি ১০-১২ লাখ টাকা লাভ হবে।’ সে হিসাবে বছরে অন্তত দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা লাভ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। শুধু কালিয়ায় নয়, নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলায়ও বড় পরিসরে আবাদ হচ্ছে ড্রাগন। জেলায় ১৫০ বিঘা জমিতে ড্রাগন আবাদ করেছেন কৃষক।

শাহবাদ এলাকার বাগান মালিক আব্দুল জলিল  বলেন, ‘ফল বিক্রি করতে কোনো ঝামেলা হয় না। বাগান থেকে ব্যবসায়ীরা ফল কিনে নিয়ে যান। পাইকারি ২০০-৪৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি হয়।’ নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার রায় বলেন, ‘চারা রোপণের ছয়-সাত মাস পর অল্প অল্প ফল আসতে শুরু করে। এক বছর পর থেকে পূর্ণাঙ্গ ফল পাওয়া যায়। একটি বাগান থেকে একভাবে ১৫-২০ বছর ফল পাওয়া যায়। সব ঠিক থাকলে প্রতি একর জমিতে বছরে অন্তত ১০-১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়।’ চলতি বছর নড়াইল জেলায় অন্তত ২০ কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button