জলবায়ু পরিবর্তন

জলবায়ু সমস্যা বাংলাদেশের অস্তিত্বের লড়াই —সাবের হোসেন চৌধুরী

 জলবায়ু সমস্যা বাংলাদেশের অস্তিত্বের লড়াই —সাবের হোসেন চৌধুরী জলবায়ু সমস্যা বাংলাদেশের অস্তিত্বের লড়াই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত সাবের হোসেন চৌধুরী। আজ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত জলবায়ু বাজেট ও সুপারিশ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তানভীর শাকিল জয় ও সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

অতিথির বক্তব্যে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘‌জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের অস্তিত্বের লড়াই। এর একটি প্রতিফলন আমরা প্রতিটি নীতিতে দেখতে পাই। জলবায়ু পরিবর্তনকে আমরা কীভাবে মোকাবেলা করব তার ওপর নির্ভর করছে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। জলবায়ুর কারণে আমাদের যে ক্ষতি হচ্ছে তা জিডিপির ৯ শতাংশের বেশি। সুতরাং জিডিপির প্রবৃদ্ধি যদি ৭-৮ শতাংশ হয়, তাহলেও আমরা ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে চলে যাব। বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তানভীর শাকিল জয় বলেন, ‘‌আমাদের সমস্যা অনুযায়ী দাতা সংস্থা থেকে যে অর্থ পাচ্ছি তা অনেক কম। কারণ এখন পর্যন্ত জলবায়ু নিয়ে কী ধরনের সমস্যা বাংলাদেশ মোকাবেলা করছে সেটা ভালোভাবে তুলে ধরতে পারিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌আমাদের দেশের সবার ধারণা গাছ লাগালে জলবায়ু সমস্যার পরিবর্তন হয়ে যাবে। আসলে তা নয়। জলবায়ু সমস্যা মোকাবেলায় স্থানীয় সরকার বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত যত উন্নয়ন হয়, সেখানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে। গ্রামীণ জনপদেও জলবায়ু সমস্যা মোকাবেলায় আমাদের সচেতন হতে হবে। সেজন্য কমিউনিটিকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে জলবায়ু সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব।’

মূল প্রবন্ধে ফাহমিদা খাতুন বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘‌সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু বাজেট সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। জলবায়ু বাজেট সংস্কার পরিচালনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়া উচিত। পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়কেও সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া উচিত। বেসরকারি খাত, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সংস্থাগুলোসহ বৃহত্তর স্টেকহোল্ডাররা এ সংস্কারকাজে যুক্ত হতে পারে।’

চলতি বছরের জলবায়ু বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আকার ১ হাজার ৪৩৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার বেশি। যদিও অষ্টম বার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২০-২৫ সালের মধ্যে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার কোটি টাকা থেকে পিছিয়ে আছে।’

এমন আরো সংবাদ

Back to top button