অর্থনীতিহাইলাইটস

শখের আম বাগানে মালেকের বাজিমাত

রাজবাড়ীইউটিউবে অন্যের আম বাগানের ভিডিও দেখে উৎসাহিত হয়ে ২০১৮ সালে নিজের আড়াই একর জমিতে ৩০০ আমের চারা রোপণ করেন রাজবাড়ীর মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শিকদার (৫০)। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। চলতি মৌসুমে তার আড়াই একর জমিতে তিন শতাধিক আম গাছে প্রচুর পরিমাণে আম ধরেছে। উন্নত জাতের আম বাগান করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তিনি। আব্দুল মালেক শিকদার রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের জৌকুড়া গ্রামের আব্দুল খালেক শিকদারের ছেলে। তিনি রাজবাড়ী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

সরেজমিনে মালেক শিকদারের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, তার প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ধরে আছে বিভিন্ন প্রজাতির আম। এর মধ্যে রয়েছে আম্রপালি, হিম সাগর, হাড়িভাঙা, মল্লিকা, ল্যাংড়া, ফজলি, বারি-৪ সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আম। আমের ভারে প্রতিটি গাছের ডাল নুয়ে পড়েছে। মালেক শিকদার নিজেই তার আমের বাগান পরিচর্যা করছেন। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই তার আম বাগান দেখতে আসছেন। অনেকে আবার আম কিনতেও আসছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি মৌসুমে জেলার ৫ উপজেলায় ৪৮০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৫৫ হেক্টর, গোয়ালন্দ উপজেলায় ১০ হেক্টর, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৪৫ হেক্টর, কালুখালী উপজেলায় ১১০ হেক্টর ও পাংশা উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করেছেন চাষিরা। যার প্রতি হেক্টর জমিতে ১১ মেট্রিক টন আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আম চাষি মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শিকদার বলেন, ২০১৮ সালে আমি ইউটিউবে দেখি অনেক কৃষি উদ্যেক্তা উন্নত জাতের আমের বাগান করে লাভবান হচ্ছেন। তাদের ঐ ভিডিও দেখে উৎসাহিত হয়ে আমি বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়ে খোঁজ খবর নিয়ে চন্দনী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ডাউকি গ্রামে আড়াই একর জমির উপরে তিন শতাধিক আম গাছের চারা রোপন করি। রাজবাড়ীর মাটি আম চাষের জন্যে উপযুক্ত হওয়ায় এ বছর আমার বাগানে প্রচুর ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কেজি আম আছে। সে হিসেবে তিন শতাধিক গাছে দুইশো থেকে আড়াইশো মণ আমের ফলন পাবো বলে আশা করছি।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button