জলবায়ু পরিবর্তন

কয়লাবিদ্যুতে বিনিয়োগ বন্ধের অঙ্গীকার উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর

পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগ

সম্প্রতি বিদেশী কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে চীন। সাংহাইয়ের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছবি: রয়টার্স
সম্প্রতি বিদেশী কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে চীন। সাংহাইয়ের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছবি: রয়টার্স

ব্রিটেনের গ্লাসগোয় চলছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হয়েছেন বিশ্বনেতারা। তুলে ধরছেন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ। এরই মধ্যে চীনসহ জি২০ভুক্ত দেশগুলো বিদেশে কয়লাভিত্তিক নতুন প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করা প্রায় সব উন্নয়ন ব্যাংক এখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ হ্রাস কিংবা বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গতকাল প্রকাশিত নতুন একটি সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্লাসগোয় জলবায়ু সম্মেলন শুরুর ঠিক আগে শিল্পোন্নত জি২০ দেশগুলো বিদেশী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এর আগে গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন।

বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট পলিসি সেন্টারের (জিডিপি সেন্টার) নতুন গবেষণা অনুযায়ী, জি২০ দেশগুলোর এ অঙ্গীকারের অর্থ হলো ৯৯ শতাংশ উন্নয়ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ কমাতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জিডিপি সেন্টারের সিনিয়র গবেষক ও নতুন সমীক্ষাটির সহযোগী হিসেবে কাজ করা রেবেকা রাই বলেন, যদি এ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করে, তাহলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চেয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কয়লাভিত্তিক প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অর্থায়ন পাওয়া সহজ হবে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, কেবল তিনটি মূল প্রতিষ্ঠান এ প্রতিশ্রুতির বাইরে থেকে গেছে। ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব লাতিন আমেরিকা, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এখনো কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধের অঙ্গীকার করেনি। পাশাপাশি চীন আর বিদেশী কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে জড়িত থাকবে না, সেপ্টেম্বরে শি জিনপিংয়ের এ ঘোষণা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মাধ্যমে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকসহ দেশটির বৃহত্তম অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান কয়লাভিত্তিক প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসবে।

সিদ্ধান্তটি দেশটির আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় অবিলম্বে প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। ব্যাংক অব চায়না অক্টোবরে শুরু হওয়া নতুন বিদেশী কয়লা খনি এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোয় অর্থায়ন বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছে। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড বিনিয়োগকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর করার নির্দেশিকা তৈরির সঙ্গে জড়িত একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা কমার বিষয়ে সচেতন ছিল। ফলে প্রেসিডেন্টের আদেশ বাস্তবায়ন করা সহজ হয়েছে।

সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিষয়টি নিয়ে বেশ সচেষ্ট। এমনকি সংস্থাগুলো এমন প্রকল্পে অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছে না। বরং সংস্থাগুলো এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধের উপায় খুঁজছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এরই মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে কয়লা। চীনের কয়লা থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণাটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জলবায়ু স্বার্থের একটি বিরল প্রান্তিকীকরণের প্রতিনিধিত্ব করে।

জলবায়ুবিষয়ক থিংক ট্যাংক ট্রানজিশনজিরোর বিশ্লেষক ম্যাট গ্রে বলেন, বর্তমানে দেশটির (চীনের) অর্থনীতি পরিবর্তন হয়েছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে কয়লা প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে চীনের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। ঋণখেলাপি হওয়া দেশগুলোর সঙ্গে এরই মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিনিয়োগ বন্ধের রাজনৈতিক সংকেত রয়েছে। তাছাড়া সংস্থাগুলোও দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি নিয়ে সরব ভূমিকায় ছিল।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button