ধর্মীয়হাইলাইটস

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

25693.ঘোড়ায় চড়ে এ বছর মর্ত্যে এসেছিলেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। গতকাল ফিরে গেলেন দোলায় বা পালকিতে চড়ে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূজা। গতকাল বিকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। বুড়িগঙ্গা নদীর ওয়াইজঘাটের বীণাস্মৃতি স্নানঘাটে প্রথম প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রাজধানীতে দেবীর বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। ঢাকার প্রায় অর্ধশত মণ্ডপের প্রতিমা এ ঘাটে বিসর্জন দেয়া হয়।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে এবার স্বাভাবিক সময়ের কিছু আগে থেকেই শুরু হয় বিসর্জনের এ আয়োজন। তাছাড়া নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা থেকে এবার বিজয়া দশমীতে আয়োজন করা হয়নি শোভাযাত্রাও। গতকাল বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ভক্তদের কাঁদিয়ে দুর্গা ফিরে গেলেন তার স্বামীর গৃহ কৈলাসে। পরের বছর শরত্কালে আবার তিনি আসবেন বাবার বাড়ি পৃথিবীতে। তবে বিদায়ের আগে রীতি অনুযায়ী দেবীকে সিঁদুর, পান ও দূর্বাঘাস দিয়ে বরণ করেন নারীরা। প্রার্থনা করা হয়, পৃথিবী হয়ে উঠবে শ্যামল ও সুফলা। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ যেন শান্তির সঙ্গে পৃথিবীতে পাশাপাশি বসবাস করতে পারে, এবার সে প্রার্থনাও ছিল দেবীর কাছে। কভিড-১৯ মহামারী থেকে রক্ষা পেতেও দেবীর আশীর্বাদ চান তার ভক্তরা।

বরাবরের মতো এবারো গত সোমবার নবরাত্রির ষষ্ঠ দিন থেকে শুরু হয় দুর্গা পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ দিনটিকে বলা হয় দুর্গাষষ্ঠী। এরপর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হয় আয়োজন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ষষ্ঠীর দিন বোধনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা পৃথিবীতে আসেন। সেদিন থেকে পাঁচদিন তিনি মর্ত্যে অবস্থান করেন। এ সময় ধরণীর সব অশুভ শক্তির বিনাশ করেন তিনি। নানা আয়োজন ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে এ দিনগুলো পালন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। গতকাল বিকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় সংশ্লিষ্ট ঘাটগুলোতে। শেষবারের মতো ধূপধুনো, আরতি, ঢাকের বাদ্য আর পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় দেবীকে। এসব বিসর্জনের নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি নিয়োজিত ছিলেন নৌপুলিশের সদস্যরাও।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাফিজ আল আসাদ বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের এ আয়োজন রাজধানীতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিলেন বলেও জানান এ কর্মকর্তা। নেয়া হয়েছিল সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ৩২ হাজার ১১৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গা পূজা হয়েছে। ঢাকা মহানগরে এ সংখ্যা ২৩৮টি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন প্রতিমা বিসর্জনের খবর—

বগুড়া: গতকাল বিকাল ৪টা থেকে বিভিন্ন এলাকার প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেয়া হয় জেলা সদরের করতোয়া নদীতে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাঙ্গালী, ইছামতী, করতোয়া শাখা নদী, নাগর নদে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে। দেবীকে বিদায় জানিয়ে অনেক ভক্তই চোখের জল নিয়ে ঘরে ফিরেছেন।

সিরাজগঞ্জ: সন্ধ্যায় যমুনায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গা পূজা। এর আগে ছিল বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন। মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বিমল কুমার দাস এ শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত, জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ, পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম, চেম্বার প্রেসিডেন্ট আবু ইউসূফ সূর্য, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুকুমার চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক নরেশ চন্দ্র ভৌমিক, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু, সাধারণ সম্পাদক সনজয় সাহা প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জ: জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার জানান, জেলায় এবার ২১৫টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর ৫ নং ঘাটের জেটি দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। বিকাল থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নেয়া হয় নদীর ঘাটে।

ঝিনাইদহ: দেবী দুর্গার বিদায়ের আগে গতকাল সকালে শহরের বারোয়ারি পূজা মন্দির, চাকলাপাড়া পূজা মন্দির, কালীতলা পূজা মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানের মণ্ডপে মণ্ডপে চলে সিঁদুর কোটা যাত্রা। সকালে পূজা অর্চনার পর দেয়া হয় পুষ্পাঞ্জলি। পরে নারীরা একে অন্যকে সিঁদুর লাগিয়ে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পরে বিকালে শহরের নবগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।

ভালো সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন

এমন আরো সংবাদ

Back to top button