এন্টারটেইনমেন্ট

বড় বাজেটের ৩০ সিনেমা মুক্তি পাবে কবে?

8520লকডাউন কিংবা প্রেক্ষাগৃহ খোলার বিধিনিষেধ উঠে গেছে গত আগস্টে। পেরিয়ে গেছে আরো দুটি মাস। কিন্তু করোনার ভয় থেকে এখনো বের হতে পারছেন না সিনেমা প্রযোজকরা। আগামী কয়েক মাসেও বড় বাজেটের ছবি মুক্তি দিতে খুব একটা আগ্রহী নন তারা। বড় বাজেটে নির্মিত ও আলোচিত ৩০টি চলচ্চিত্র এ মুহূর্তে মুক্তির জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সাহস দেখিয়েছেন শুধু মিশন এক্সট্রিম সিনেমাসংশ্লিষ্টরা। আগামী ৩ ডিসেম্বর এটি মুক্তির দিন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বেশির ভাগ প্রযোজকই ২০২২ সালে সিনেমা মুক্তির কথা ভাবছেন। জানা যায়, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার জ্বীন ছবিটি দুই বছর ধরে মুক্তির অপেক্ষায় আছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জ্বীন ছবি মুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সবকিছু বুঝেশুনে মুক্তি দিতে চান তারা। মাত্রই করোনার পর হলগুলো চালু হয়েছে। প্রজেকশন মেশিনগুলো ঠিকঠাক করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে তাদের আরেকটু সময় লাগবে।

বর্তমানে প্রায় ৩০টি ছবি নির্মাণে ব্যস্ত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়া, যার বেশির ভাগই স্বল্প ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে। তবে তাদের বড় বাজেটের ছবি হলো শাকিব খান অভিনীত বিদ্রোহী। দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে সেটিও।

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার সেলিম খান বলেন, ‘২ কোটি টাকার ওপরে বিদ্রোহী ছবির বাজেট। তাই এখনই ছবিটি মুক্তি দেয়ার সাহসই পাই না। এখন হলে ছাড়লে বড়জোর ৪০-৫০ লাখ টাকা উঠবে।’

চলতি বছরের আলোচনায় ছিল দুটি বিগ বাজেটের সিনেমা অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন ও অপারেশন সুন্দরবন। এর মধ্যে প্রথমটির পরিচালক আবু রায়হান জুয়েল জানান, স্কুল-কলেজ পুরোপুরি চালু হলে তবেই সিনেমাটি মুক্তি দেবেন। অন্যদিকে অপারেশন সুন্দরবন সিনেমার পরিচালক জানালেন, ছবিটি মুক্তির জন্য আগামী বছরের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা। শুধু করোনা নয়, চলতি বছরের শেষের দুই মাস হবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। ১৪ নভেম্বর এসএসসি ও ২ ডিসেম্বর এইচএসসি শুরু হবে। এ সময়টা নিয়েও ভাবছেন অনেক নির্মাতা। আলোচনায় থাকা শান ছবির পরিচালক এমএ রহিম এমনটাই জানালেন। বললেন, ‘শান সিনেমার মুক্তি নিয়ে আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি। আরো কয়েকটা মাস যাক। কারণ এখনো করোনার বিষয়টি পরিষ্কার হয়নি। অন্যদিকে এ বছরের শেষে দীর্ঘদিন পর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে। তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বেশ ব্যস্ত থাকবেন। তাই এখন ছবি মুক্তি দেয়ার প্রশ্নই আসে না।’ গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে করোনা লকডাউন শুরু হলে সিনেমা হলও বন্ধ হয়ে যায়। মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ ছবি ছিল শাহেনশাহ। মুক্তি আটকা পড়ে প্রায় দেড় ডজন নতুন ছবির। চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও প্রদর্শকরা। প্রায় সাত মাস পর ১৬ অক্টোবর সিনেমা হল খুললেও দর্শক আসার নিশ্চয়তা না থাকায় লোকসানের ভয়ে কোনো বিগ বাজেটের ছবি মুক্তি দিতে সাহস পাননি প্রযোজকরা।

শাহেনশাহ মুক্তির ১৯ মাস পর পুরোপুরি বাণিজ্যিক ছবি হিসেবে ১ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে চোখ। ৩৮টি হলে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহে খুব একটা ভালো ফল দেখাতে পারেনি। এদিকে তুলনামূলক কম বাজেটের আরো কিছু চলচ্চিত্র চলতি বছরে মুক্তি পেতে পারে। তার মধ্যে আছে অনুদানের ছবিও। সে তালিকায় আছে পদ্মাপুরাণ, যাও পাখি বলো তারে, আশীর্বাদ, স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা ইত্যাদি।

যদিও দর্শকরা মূলত তাকিয়ে আছেন সিয়াম-ফারিয়ার অপারেশন সুন্দরবন,  অনন্ত জলিলের দিন: দ্য ডে, শাকিব খানের অন্তরাত্মা, পরীমনির অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন, আরিফিন শুভর মিশন এক্সট্রিম, মাহির আনন্দ অশ্রুর মতো ছবিগুলোর দিকে।

ভালো সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন

এমন আরো সংবাদ

Back to top button