কৃষিহাইলাইটস

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে

স্বপ্নের ফসল আগাম আলু রোপনে ব্যস্ত কৃষক

896520নীলফামারীর কিশোরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় আগাম আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। ধান কাটা মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী। ঘরে মাঠের সোনালী ধান তুলতে কমর বেঁধে নেমেছে তারা। ভাল ফলন আর দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। অন্যদিকে ভাগ্য পরির্বতনের স্বপ্নের ফসল আগাম আলু রোপনে জোরে সোরে মাঠে কাজ করছে আলু চাষীরা। উচুঁ-বেলে-দো আশ মাটি হওয়ায় এ এলাকার বিস্তৃন ফসলের মাঠ সারা বছরেই সবুজে ভরপুর থাকে। জমিগুলোতে তিন থেকে চারটি ফসল হওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে কৃষক বলে কৃষি বিভাগ জানান। আগাম ধান কাটা ও আগাম আলু রোপন যেন, আগাম শীতের বার্তাই বহন করে। শীতকালীন পিঠা- পায়েশ তৈরি ও নবান্নের প্রস্তুতি নিচ্ছে গ্রামে গ্রামে। বাঙ্গালী সংস্কৃতির ঐতিহ্য ফুটে উঠছে গ্রামে গ্রামে। সবেই যেন আগাম আগাম।

মাঠ জুড়ে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে বেশ আনন্দেই আগাম আমন ধান কাটা মাড়াই ও শুকানোর কাজ শুরু করেছে কৃষক-কৃষাণীরা। এছাড়া রোদ থাকায় ধান কাটা মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছে নির্বিঘ্নে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছর আগাম আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও পাচ্ছে বেশ। মন প্রতি ৯ শ’ থেকে ৯ শ’ ৫০ টাকায় দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। ধান কেটে আবার এসব জমিতে আগাম আলু রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে আলু চাষীরা। এ এলাকায় ভাগ্য বদলের ফসল হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে আগাম আলু। এ স্বপ্নের ফসল রোপনে জমিতে জমিতে সার ছিটানো, পরিচর্যা, বীজ প্রক্রিয়াজাত করছে দিন-রাত ধরে। ইতোমধ্যে অনেক আলু চাষী আলু রোপন শুরু করেছে দাম পাওয়ার আশায়। যেন কৃষকদের দম ফেলানোর কোন সময় নেই। আগাম ধান কাটা ও আগাম আলু রোপন যেন শীতের আগাম বার্তা নিয়ে এসেছে। ব্যস্ত আর আনন্দে দিন কাটছে কৃষক-কৃষাণী আর চাষীরা। আগাম আমন ধান কেটে গ্রামে গ্রামে অনেকে বাড়িতে শীতকালীন পিঠা, পায়েশ অন্যান্য খাবার তৈরির প্রস্তুতিও গ্রহণ করছে। আরও ক’দিন পরেই আগাম আমন ধানের চাল দিয়ে পিঠা-পায়েশ-মুড়ি খাওয়ার ধুম পড়বে গ্রামে গ্রামে । এসময় নবান্নে মেতে উঠবে গ্রাম বাংলা। আগাম আমন ধান কাটা মাড়াইয়ে সে প্রস্তুতিই বাঙ্গালী সংস্কৃতির ঐতিহ্য ফুটে উঠছে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে। আগাম ধান কাটা, আগাম নবান্ন প্রস্তুতি, আগাম আলু রোপন, আগাম শীতের বার্তা যেন সবেই আগাম আগাম।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়- উপজেলায় এ বছর আগাম আমন ধান চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৮ শ’ ৭৫ হেক্টর জমিতে। ফসলের মাঠে মাঠে আগাম আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। এসব জমিতে আগাম আলু রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষক-কৃষাণীরা। অন্যদিকে এ বছর আগাম আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৪ শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে- বাহাগিলী, পুটিমারী, কালিকাপুর, রনচন্ডীর বিভিন্ন স্থানে আগাম আমন ধান কাটছে কৃষকরা। রনচন্ডী ইউনিয়নের বাফলা গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র ছাইয়াদুল তার কয়েক বিঘা জমির আগাম ধান কাটা শুরু করেছে। অন্যদিকে রনচন্ডী ইউনিয়নের বাফলা গ্রামের ছাবেদ আলীর পুত্র আলু চাষী আব্দুল হাই ১ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপন করেছে। তিনি আরও কয়েক বিঘা জমিতে পর্যায়ক্রমে আলু রোপন করবে বলে জানান। সে জানায়- আগাম ধান কাটার পর ওই জমিতেই আগাম আলু রোপন করে আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হওয়া যায়। গত বছর আমি বাজাওে ৭৮ টাকা করে আগাম আলু বিক্রি করেছি।

আজ বৃস্পতিবার বিকালে কৃষি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে আগাম আমন ধান কর্তন শুরু করেছে। রনচন্ডী ইউনিয়নের বাফলা গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র ছাইয়াদুল’র জমিতে আগাম আমন ধান কর্তনের শুভ উদ্বোধন করেন নীলফামারীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তুষার কান্তি রায় প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তুষার কান্তি রায় জানান- এখানকার জমি উচুঁ-বেলে-দো আশ মাটি হওয়ায় এ এলাকার বিস্তৃন ফসলের মাঠ সারা বছরেই সবুজে ভরপুর থাকে। জমিগুলোতে তিন থেকে চারটি ফসল হওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান জানান- আলু এখানকার জনপ্রিয় ও অর্থকারী ফসল। আগাম আমন ধান কাটা যেমন শুরু করেছে, অন্যদিকে ওই জমিগুলো আগাম আলু রোপনেও বসে নেই চাষীরা। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও পাচ্ছে বেশ। আগাম আলুর ফলনও ভাল এবং দামও বেশ পাবে বলে আমরা আশাবাদী।

মাধ্যম
আবু হাসান শেখ

এমন আরো সংবাদ

Back to top button