জেলার খবর

১৭ এপ্রিল ফুলবাড়ীর আঁখিরা গণহত্যা দিবস

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর স্মৃতিসৌধ নির্মাণ শুরু

de১৭ এপ্রিল শনিবার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আঁখিরা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রাণে বাঁচাতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার চিহ্নিত রাজাকার কেনান সরকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অর্ধশত হিন্দু পরিবারের দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ, শিশু ও কিশোর- কিশোরীকে ভারতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে পাকিস্তানী খানসেনাদের হাতে তুলে দেয়। পরে খানসেনারা আটক সবাইকে উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাইহাট সংলগ্ন আঁখিরা নামক স্থানের পুকুর পাড়ে নিয়ে গিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
দেশ স্বাধীনের পর ওই এলাকায় বীর শহীদদের হাঁড়-গোড়, মাথার খুলি ছিড়িয়ে ছটিয়ে দেখতে পায় এলাকাবাসী। অবশ্য দেশ স্বাধীনের পর এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা ঘাতক রাজাকার কেনান সরকারকে ধরে এনে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে।
এই গণহত্যার ৫০ বছর পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগীতায় সেই বধ্যভূমিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে গণপূর্ত বিভাগ।
আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের স্মরণ করতে কেউই কোন উদ্যোগ নেয় না। ফলে দিনটি নিরবে আসে আর নিরবেই চলে যায়।
এলাবাসী কাছ থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী খানসেনা ও তাদের এ দেশীয় রাজাকার, আলবদর ও আল-শামসদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে মুক্তিকামী মানুষ যখন বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিল ঠিক এমনই এক সময় আজকের এই দিনে ফুলবাড়ী উপজেলার পার্শ্ববর্তী আফতাবগঞ্জ, বিরামপুর, শেরপুর, খোলাহাটি, বদরগঞ্জ ও ভবানীপুর এলাকার অর্ধশত হিন্দু পরিবারের দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে ফুলবাড়ী সীমান্ত দিয়ে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ফুলবাড়ীতে নিয়ে আসে পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার (বর্তমান ফুলবাড়ী) রামভদ্রপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার। কিন্তু কেনান সরকার ওই পরিবারগুলোকে ভারতে পৌঁছে না দিয়ে তুলে দেয় ফুলবাড়ীতে অবস্থানরত খানসেনাদের হাতে। এর পরিবর্তে কেনান সরকার হাতিয়ে নেয় ওই পরিবারগুলোর সাথে থাকা বিপূল অংকের নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার। খানসেনারা আটক পরিবারের নারী-পুরুষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ধরে নিয়ে আসে আঁখিরা পুকুর পাড়ে। সকাল ১১টায় সকলকে পুকুর পাড়ে লাইন ধরে দাড়িয়ে রেখে স্টেনগানের ব্রাশ ফায়ারে গুলি করে পাখির মতো হত্যা করে। এ সময় দু’একজন শিশু-কিশোর প্রাণে বেঁচে গেলেও পরে তাদেরকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। অবশ্য দেশ স্বাধীনের পর রাজাকার কেনান সরকারকে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করে প্রতিশোধ নেন।
দেশ স্বাধীনের পর থেকে আঁখিরা বধ্যভূমিটি সংরক্ষণসহ সেখানে বীর ওইসব শহীদদের স্মৃতি উদ্দেশ্যে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও শুধুমাত্র অর্থের অভাবে সেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয় যাওয়ার পর অত্র এলাকা সাংসাদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেই বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে গণপূর্ত বিভাগ।

মাধ্যম
ওয়াহিদুল ইসলাম ডিফেন্স

এমন আরো সংবাদ

Back to top button