ভ্রমণ

ম্যানিয়াংপাড়ার পথে

ভবঘুরের খেরোখাতা

আলীকদমতেরোকিলো হতে রওনা দেওয়ার পর প্রথম যে পাড়াটা পাই সে পাড়াটার নাম ম্যান পই পাড়া। মাঝারি একটা পাহাড়ের উপরে প্রায় সমতল একটা স্থান ঘিরে পাহাড়ের খাচে খাচে কয়েকটা ঘর। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট্ট একটা পানির ধারা। ৫ পরিবারের ছোট্ট একটা পাড়া, কারবারী ম্যানপই মুরং। পাড়ার মুখেই ম্যানপই মুরং এর সাথে দেখা। ম্যানকিউ পাড়ার রাস্তার কথা জিজ্ঞেস করতেই বলল আমরা ঠিক পথেই আছি।

বাসে ঢাকা থেকে আলীকদম। ভোরে বাস থেকে নেমে নাস্তা সেরে নিয়ে জাফর ভাইকে ফোন দিয়ে বল্লাম এসে গেছি, বাইক নিয়ে আসেন। জাফর ভাই এর বাইকের পিছনে চেপে প্রথমে আর্মি ক্যাম্পে। সেখানে অনুমতি নিয়ে, নাম এন্ট্রি করে রওনা দিলাম তেরো কিলোর পথে। বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু রাস্তা আলীকদম – থানচি রোড ধরে আধা ঘন্টার ও কম সময়ে পৌঁছে গেলাম তেরো কিলো। এই রাস্তায় বাইক ট্যুর সবসময় উত্তেজনাকর। পাহাড়ি উচু নিচু পথ ধরে ছুটে চলার পাশাপাশি মুক্তভাবে প্রকৃতি দর্শনের সুযোগ অন্য বাহনে হয় না। তেরো কিলোতে কিছুক্ষন অপেক্ষা করতেই থানচি থেকে আসলো উসাই মারমা ও হাসান ভাই। এর পর অপেক্ষা কিরন ভাই এর জন্য। কিরন ভাই আসতেই তাবু,খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চেক করে নেমে পরলাম ম্যানিয়্যাং পাড়ার পথে।

আলীকদমতেরো কিলো থেকে থানচির দিকে একটু এগিয়ে গিয়ে ডান দিকে নেমে গেলাম আমরা। ঘন্টা দুই হাঁটার পর যে পাড়াটা পাই সে পাড়াটার নাম ম্যানপই পাড়া। পাঁচ পরিবারের ছোট্ট একটা পাড়া ম্যানপই পাড়া। মাঝারি একটা পাহাড়ের উপরে প্রায় সমতল একটা স্থান ঘিরে পাহাড়ের খাচে খাচে কয়েকটা ঘর।পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট্ট একটা পানির ধারা। ম্যানপই পাড়ার কারবারী ম্যানপই মুরং খুবই সদালাপি ও হাসি খুশি একজন মানুষ। পাড়ায় ঢোকার মুখেই ম্যনপই মুরং এর সাথে দেখা হলো। ম্যানকিউ পাড়ার রাস্তার কথা জিজ্ঞেস করতেই বলল আমরা ঠিক রাস্তাতেই আছি। আমাদের খাবার পানি প্রায় শেষ হয়ে আসছিল, তার কাছে জানলাম পাশেই একটা ছরা আছে। সেখনেই পেয়ে গেলাম পালেমুরং কে জানালো ওনার আবাস স্থল ম্যানকিউ পাড়ায় এবং উনি ম্যানকিউ পাড়ার দিকেই যাচ্ছেন, আমরা মনে সাহস পেলাম। এরকম পাহাড়ি নির্জন পথে একজন স্থানীয় সঙ্গী পাওয়াটা সৌভাগ্যই বটে।

ছরার শীতল পানিতে হাত মুখ ধোয়ার পর আমরা সকলে পথের সব ক্লান্তি ভুলে গেলাম। সকাল থেকে আমরা কেউই তেমন কোন ভারী খাবার খাইনি, তাই সঙ্গে থাকা খেজুর ও মোয়া খেয়ে পালে মুরং এর সঙ্গে অগ্রসর হলাম ম্যানকিউ পাড়ার পথে। পাহাড়ি উচু নিচু পথ একবার পাহাড়ের মাথায় ওঠো, পরোক্ষনেই আবার নিচে। তবে পথিমধ্যে বেশ কিছু ছরা থাকায় প্রয়োজন মতো পানি সংগ্রহ করা যাচ্ছিল আর ছরার শীতল পানির পরশ ছিলো পথের ক্লান্তি দুর করার মহৌষধ। ম্যানকিউ পাড়ায় পৌঁছতে পৌঁছতে বিকেল হয়ে গেল।

ত্রিশ পরিবারের বেশ বড়সর পাড়া ম্যান কিউপাড়া। পাহাড়ের ঢালে ঢালে এক একটি পরিবার। যত্র তত্র কিছু আবর্জনা দেখা গেলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোন কমতি নেই, চোখ জুড়িয়ে যায় নিমিষেই। পাশেই একটা মাঠ, আমরা চাচ্ছিলাম আজকের রাতের মতো এখানেই তাবু ফেলবো। পাড়ায় থাকার জন্য অনুমতি নিতে পালেমুরং সহ গেলাম পাড়ার কারবারি লংনান মুরং এর কাছে। লংনান মুরং তার নাতনি তুং মুরং সহ এগিয়ে এলেন, খুবই আন্তরিকভাবে কথা বললেন আমাদের সাথে। খেজুর, মোয়া আর খুরমা দিয়ে লংনান মুরং সহ সেখানেই আমরা বৈকালিক নাস্তা সারলাম। জানতে পারলাম এখান থেকে ম্যানিয়্যাং পাড়া ৪ ঘন্টার পথ।
(চলবে)

লেখক : উন্নয়ন কর্মী ও ভূ-পর্যটক

এমন আরো সংবাদ

Back to top button