ভ্রমণহাইলাইটস

বন্ধুত্বের বন্ধনে এমিরেটস এয়ারলাইন

karamot ullah biplob‘মিট ইন দ্যা মিডল’ এই ব্যপারটির সাথে দুবাইয়ে এসে এবার ভালো জানাশোনা হলো। অন্যরকম ভালোলাগার অনুভুতিও হলো। সারা দুনিয়ার হাজারো মানুষ এই অনুভুতি নিতে এখন আসছেন মধ্যপ্রাচ্যের রাজধানী দুবাইয়ে। বিষয়টি খুলে না বললে অনেকেই হয়তো বুঝতে পারবেন না। পাক্কা এক বছর পরে এবার দুবাই সফর।

চীনে করোনা ভাইরাসে মহামারী শুরু হয়েছে ২০১৯ এর ডিসেম্বরে। যা বিশ্ব মহামারী আকারে ছড়ায় ২০২০ এর মার্চে। এরপর একে একে লকডাউন হয়েছে দেড়শ’রও বেশি দেশে। বিমান চলাচল বন্ধ। সীমান্ত দিয়ে চলাচলও বন্ধ করে অনেক দেশ। দেয়া হয় নানা বিধি নিষেধও। জরুরি প্রয়োজন অথবা মা, স্ত্রী, সন্তান বা স্বজন প্রিয়জনকে দেখতে এ সময় জন্মভূমি কিংবা ভিন্ন কোন দেশে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে সবার জন্য। লম্বা ছুটি পেলেও এ সময় এক দেশ থেকে অন্য দেশে এমনকি নিজের দেশেও যাওয়ার সুযোগও ছিলো না অনেকের। এই দু:সময়েই সাহসের কাজটি করেছে এমিরেটস এয়ারলাইন। করোনা মহামারীর লকডাউন-কারফিউয়ের মধ্যে বিশ্বের যে কয়টি বিমান সংস্থা সবার আগে সরাসরি অপারেশন শুরু করে তার মধ্যে এমিরেটস ছিলো সামনের কাতারে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে তাদের নেয়া ব্যবস্থাগুলোও ছিলো অনন্য। তাই এই বিশ্ব মহামারীর মধ্যেও দুবাই পরিণত হয়েছিলো ‘মিটিং ইন দ্যা মিডল’ এ। অবশ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের নেয়া পরিকল্পনা ও সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহারেই তা সম্ভব হয়েছে। করোনার ভয় জয় করে নিরাপদে দেশটি সফর করেছেন লাখো মানুষ। যা অন্য কোন দেশে এ সময়ের মধ্যে হয়নি ।

karamot
বুর্জ খলিফার ১২৫ তলায় মীর সেলিম উদ্দিনের সাথে।

মিট ইন দ্যা মিডল : বাংলাদেশীদের অনেকেই করোনাকালে চাইলেও প্রবাস থেকে দেশে আসতে পারেননি। বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকা প্রবাসীদের জন্য যা ছিলো প্রায় অসাধ্য। তাদের অনেকেই মহামারীর মধ্যে নিজেদের ‘মধ্য গন্তব্য’ করেছেন দুবাই। করোনা শুরুর পর কিছুদিন দুবাইয়ের টুরিষ্ট ভিসা বন্ধ ছিলো। কিন্ত, তা আবার চালু হয় অন্যান্য দেশের আগেই। ভিসা পাওয়াও খুব সহজ। তাই, ইউরোপ-আমেরিকা থেকে অনেকেই এসেছেন দুবাই। দেশ থেকে পরিবার স্বজনরাও গেছেন সেখানে। এভাবে অনেকদিন পর তারা মিলেছেন, দেখা সাক্ষাত করেছেন, এক সাথে থেকেছেন, ঘুরে বেড়িয়েছেন আবার নিরাপদে যে যার গন্তব্যে চলে গেছেন। শুধু বাংলাদেশী নয় ভারতসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকরা দুবাই-আবুধাবির মধ্য গন্তব্যে মিলেছেন করোনার এই অসময়ে। আর একেই এমিরেটস এয়ারলাইন নাম দিয়েছে মিটিং ‘ইন দ্যা মিডল’। করোনা মহামারীর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যতো বিদেশী এসেছেন তার ৭০ ভাগেরও বেশি পরিবহন করেছে এমিরেটস এয়ারলাইন।sarver

সংক্রমণ ঠেকাতে যতোকিছু: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এমিরেটস এয়ারলাইনের ব্যবস্থানা  ছিলো চোখে পড়ার মতো। এমিরেটসের যাত্রী হতে হলে অবশ্যই থাকতে হবে কোভিড পরীক্ষার পর নেগেটিভ সার্টিফিকেট। এছাড়া গন্তব্যে রওনা হওয়ার আগে এখন দুই দফায় উড়োজাহাজের ভেতর বাহির জীবানুমুক্ত করছে এমিরেটস। মেপে দেখা  হচ্ছে যাত্রীদের  শরীরের তাপমাত্রা এবং অন্যান্য লক্ষণ। উড়োজাহাজের ভেতরে যাত্রীদের আসন, হাতল, বিনোদন যন্ত্রের সুইচ, বালিশ, চাদর, কম্বল খাবার টেবিল থেকে শুরু করে টয়লেট এমনকি হাটা-চলার জায়গাও যাত্রী উঠার আগে এবং নামার পড়ে ধুয়ে মুছে সাফ করছেন তারা। হাতে না ছুয়ে খাবার সরবরাহ করেছেন বিমান কর্মীরা। উড়োজাহাজের ভেতরে সবার মাস্ক পড়া এখনো বাধ্যতামুলক। যাত্রীদের সবাইকে দেয়া হচ্ছে এমিরেটস এয়ারলাইনের বিশেষ ‘হাইজিন কিট’ । এয়ারক্রাফটের ভেতরে যেসব কর্মী কাজ করছেন তারা পড়ে থাকছেন পিপিই। দুবাই এয়ারপোর্টে প্রত্যেক যাত্রীর করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামুলক। বিনামুল্যে এই পরীক্ষার ৬-১২ ঘন্টার মধ্যে ফলাফল মোবাইল ফোনে ম্যাসেজে পেয়ে যাবেন যাত্রীরা। ম্যাসেজে ‘নেগেটিভ’  ফলাফল পাওয়ার আগে হোটেল বা অবস্থান থেকে দুবাইয়ে বাইরে ঘোরাফেরা নিষেধ। এছাড়া বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া করা হচ্ছে প্রযুক্তির মাধ্যমে। কাগজপত্র হাতে না ছুঁয়ে। এতো কঠোর ব্যবস্থাপনার কারনেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার একেবারেই কম ।

dubaiজেগে উঠছে দুবাই: করোনার ভয়াল মন্দা বানিজ্য কাটিয়ে আবার জেগে উঠছে  দুবাই। বিশ্বের অন্যতম বনিজ্যিক এই নগরীতে এখন আবার আসতে শুরু করেছেন টুরিষ্ট-ব্যাবসায়িরা।  অনেক মানুষের ভিড়ে আবার সরগরম হচ্ছে বুর্জ খলিফা, দুবাই ফ্রেম, আটলান্টিস পাম সিটির লস্ট ওয়ার্ল্ড ও ডেজারট সাফারির মতো বিশ্ব নন্দিত সব স্থান আর আয়োজন। করোনার কারনে এক বছর পিছিয়ে এ বছর অক্টোবরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বানিজ্য মেলা ’এক্সপো ২০২০’ আয়োজন করতে যাচ্ছে দুবাই। যা চলবে ২০২২ সালের মার্চ অবধি ৬ মাস ধরে।  সারা দুনিয়ার আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ এই আয়োজনে অংশ নিতে এবং দেখতে দুবাই যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এজন্য প্রায় ২০ বিলিয়ন  মার্কিন ডলার খরচ করে হোটেল-মোটেল, এক্সপো সেন্টার, রাস্তা, ব্রীজসহ নানা সুবিধা ও স্থাপনা তৈরির কাজ এখন শেষের দিকে।   মোটকথা, ৬ মাসের এই মেলা আয়োজনে দুবাই খরচ করছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এও এক নতুন বিশ্ব রেকর্ড।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button